সংবাদ শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় রোগীর খাবার খেয়ে সন্তুষ্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী বারসিক’র উদ্যোগে প্রাণী স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বিষ দিয়ে মাছ শিকার, ২৯০ কেজি চিংড়ি বিক্রির অভিযোগ কয়রায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মৎস্যঘের দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এমপি শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনীতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত, নওয়াবেঁকি মিতালী সংঘের ২-০ গোলের জয় শ্যামনগর গাবুরার কাজীর বিরুদ্ধে ভুয়া বিবাহ নিবন্ধনের অভিযোগ, এমপি নজরুলের বিয়ে নিবন্ধন নিয়ে নতুন বিতর্ক সুন্দরবন বন্ধ, নাকি খোলা? বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনী নৌ পুলিশের অভিযানে ৫০ হাজার বাগদা-গলদা রেণু পোনা জব্দ, নদীতে অবমুক্ত নওয়াঁবেকি থেকে উদ্ধার করা ৭৭ বস্তা ঝিনুক সুন্দরবন সংলগ্ন মালঞ্চ নদীতে অবমুক্ত করেছে বনবিভাগ

খেলাধুলা

এম এ হালিম উপকূলীয় বার্তা।
মেগা ফাইনাল ম্যাচে চকবারা অমর স্মৃতি সংঘ চকবারা সোনাই স্মৃতি সংসদ কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
গাবুরা ইউনিয়ন স্পোর্টস টিম কর্তৃক আয়োজিত সুন্দরবন উপকূলের বৃহৎ ক্রীড়া আসর ‘ গাস্ট এক্সপ্রেস সিজন – ৭ ‘ উদ্বোধনী অনুষ্টান হয় ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে। আসরের প্রতিপাদ্য জেলার স্লোগান ‘সাতক্ষীরার আকর্ষণ ‘
 সড়ক পথে সুন্দরব, । সুন্দরবন পর্যাটন কেন্দ্র কলা গাছিয়া ইক্যোটুরিজমে ক্যাপ্টেন্স মিট ও ট্রফি উন্মোচন হয়।
২৭-২৮ ডিসেম্বর দুইদিন ব্যাপী ক্রিকেট আসরের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি. এম. মাসুদুল আলম।
উক্ত আসরে ৮ টি দল অংশগ্রহণ করে যথাক্রমে স্টুডেন্টস কেয়ার সোসাইটি, চাঁদনীমুখা একতা যুব সংঘ, গাবুরা ফ্রেন্ডস ক্লাব, গাইনবাড়ী গোল্ডেন বয়েজ ক্লাব, চকবারা সি এস ক্লাব, ৯নং সোরা সূর্যতরুণ যুব সংঘ, চকবারা সোনাই স্মৃতি সংসদ ও চকবারা অমর স্মৃতি সংঘ।
৭ম আসরে নতুন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ‘ চকবারা অমর স্মৃতি সংঘ ‘ এবং রানারআপ হয় ‘ চকবারা সোনাই স্মৃতি সংসদ।
ম্যাচ পরিচালনার করেন, বিসিবি জেলা আম্পায়ার,শাহিনুর রহমান লিটু ও পরিচালক নওয়াবেঁকী,ক্রিকেট একাডেমির মোঃ আবির হোসেন, ইনজামামুল হক বাপ্পী ও স. ম. আরিফুক ইসলাম।
ম্যান অফ দ্যা ফাইনালের কৃতিত্ব অর্জন করে ফাহিম মোল্যা ( অমর স্মৃতি সংঘ )
আসর সেরা ক্রিকেটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন মোঃ আশরাফুল ইসলাম ( অমর স্মৃতি সংঘ )
আসর বাস্তবায়নে টুর্নামেন্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি নাছিম সায়াদাত ফয়সাল, কমেন্ট্রিতে মোল্যা আব্দুস সামাদ আযাদ, মোঃ আসাফুর রহমান, শুশান্ত কুমার মন্ডল ও আশরাফুল ইসলাম।
হাইস্ট রান স্কোরার : আশরাফুল ( অমর স্মৃতি ) ৯৮ রান (৩ ম্যাচ) হাইস্ট উইকেট টেকার – আল কারি ( সোনাই স্মৃতি ) ৬ উইকেট ( ৩ ম্যাচ)
বেস্ট ফিল্ডার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট – শাহ আলম ( স্টুডেন্টস কেয়ার)
এমারজিং প্লেয়ার অফ দ্যা ইয়ার -সুজন হোসেন ( ফ্রেন্ডস ক্লাব ) রান ১৭ , উইকেট-৫ (ম্যাচ ২)
ফেয়ার প্লে টিম অফ দ্যা টুর্নামেন্ট – চকবারা সোনাই স্মৃতি সংসদ
পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন ১২নং ইউপি চেয়ারম্যান জি. এম. মাসুদুল আলম। গাবুরা ইউনিয়ন স্পোর্টস টিমের উপদেষ্টা পরিষদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য, কার্যকারী কমিটির সদস্য, স্থানীয় আয়োজক সদস্যদের সাথে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় আয়োজক হিসেবে আসরটি আয়োজন করে ৯নং সোরা সূর্যতরুণ যুব সংঘ। আসরটি মূল আয়োজনে ছিলো গাবুরা ইউনিয়ন স্পোর্টস টিম।

গাবুরা ইউনিয়ন স্পোর্টস টিম (গাস্ট) এক্সপ্রেস, সিজন -৭মেগা ফাইনাল ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত

পাঁচমিশালী

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

শ্যামনগরে উপজেলার নুরনগর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মুনছুর আলী কারিকরের এলটি-সি ১(ক্ষুদ্র শিল্প) মিটারে এমন চিত্র পাওয়া যায়। গত এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখে বিদ্যুৎ অফিস বিল প্রস্তুত করে পূর্ববর্তী মার্চ মাসের (১৯৪৫) হিসাবের সাথে এপ্রিল মাসের ২০৫ ইউনিট যোগকরে বিল করে ২১৫০ ইউনিট। কিন্তু বিলের সাথে মিটারের কোন মিল নেই। আজ ১৯ শে মে তথ্যের ভিত্তিতে বিল ও মিটারের ইউনিট মিল করতে গেলে দেখা যায়,বর্তমান সময়েও ৬৭ ইউনিট বেশি, মিটারে আছে (২০৮৩)। তাহলে বিল প্রস্তুতির সময় অনুযায়ী প্রায় ১০০ ইউনিট বেশি ছিলো।

ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন,এটি নতুন করে নয়,প্রায় এমন ভাবে বিল করে,এর আগেও ২০০০ হাজার টাকা বেশি বিল করেছিলো। অফিসের লোক এসে যদি মিটার দেখে লেখি নিয়ে বিল করে,তাহলে এমন হওয়ার কথা না। তারা অফিসে বসে বিল করে বলে মনে আমি এর প্রতিকার চাই। এমন হয়রানী যেন না করে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নুরনগর সাব জোনাল অফিস কর্তৃক গ্রাহকের একশত ইউনিট বেশি লিখে হয়রানীর অভিযোগ

বিস্তারিত....

পুরাতন সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

লাইফস্টাইল

 

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

জাতীয় আদিবাসী পরিষদ খুলনা জেলা কমিটির আয়োজনে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে এসডিএফ অফিসে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় বিরসা মুন্ডা ১৪৭ তম জন্মদিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদ খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরদারের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল মুন্ডা’র সঞ্চলনায় বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের খুলনা জেলা কমিটি সাধারণ সম্পাদক নিরাপদ মুন্ডা,কোষাধ্যক্ষ শ্যামসুন্দর সরদার,দপ্তর সম্পাদক সাধন মুন্ডা,সদস্য উজ্জল মুন্ডা,দয়াল মুন্ডা,আদিবাসী তরুন নেতা সনজিৎ মুন্ডা, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি সুব্রত মুন্ডা,সদস্য রবেন মুন্ডা প্রমূখ।

সভায় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে নিরাপদ মুন্ডা বলেন, “বিরসা মুন্ডা আমাদের সংগ্রাম ও আদর্শের মূর্তপ্রতীক। তাঁর জীবনাদর্শ চর্চা বাংলাদেশে খুব একটা চোখে পড়ে না। আমাদের মুন্ডা কমিউনিটিতে তাঁকে ঘিরে নানান আয়োজন করা দরকার, তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম তাঁকে জানতে পারবে । বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামে বিরসা মুন্ডার বীরত্ব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে আমাদের কাজ করতে হবে”

সভাপতি তপন মুন্ডা বলেন , বৃটিশদের বিরুদ্ধে বিরসা মুন্ডার গৌরবগাঁথা ইতহাস আমাদের তুলে ধরা দরকার। তাঁর এই সংগ্রাম আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার”

উল্লেখ্য, মুন্ডা বিদ্রোহের অন্যতম নেতা বিরসা মুন্ডার জন্মদিন আজ। ১৮৭৫ সালের ১৫ ই নভেম্বর বিহারের উলিহাতু গ্রামে এই নেতার জন্ম হয়। তার হাত ধরেই পরাধীন ভারতের আদিবাসী জাগরণ শুরু হয়। এই মহান নেতার জন্মদিন পালনে আজ সারা বাংলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পরাধীন ভারতে ইংরেজরা আদিবাসীদের ওপর নির্মম অত্যাচার শুরু করে। সেই অত্যাচারের বিরোধিতা করতে বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে শুরু হয় মুন্ডা বিদ্রোহ। সেই সময় বিরসা বাহিনীর আক্রমণে শতাধিক ইংরেজ সেনা মারা যায়। আক্রমণের জবাবে ইংরেজ সরকার নির্বিচারে বহু মানুষকে মেরে ফেলেন এবং শুরু হয় বিরসার খোঁজ। পরবর্তীকালে ইংরেজ সরকারের টাকার বিনিময়ে বিরসাকে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় বিচার পর্ব। অবশেষে ১৯০০ সালের ৯ জুন বিষ প্রয়োগের ফলে রক্ত বমি করে এই মহান নেতা মারা যান।

কয়রায় বৃটিশ বিরোধী মহানায়ক বিরসা মুন্ডার ১৪৭ তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 লাল মিয়া নামেই ডাকতো
রোদ্দুরে গেলে গায়ের রং লাল হয়ে যেত। তাইতো ছেলেবেলায় সবাই লাল মিয়া নামেই ডাকতো। সেই থেকে তারাও লাল কাকু বলেই চিনতেন। কুড়িগ্রাম আর মাছিমদিয়া পাশাপাশি গ্রাম। ছোটবেলায় দেখেছেন লালকাকু তাদের বাড়িতে আসতেন। বিয়ে হলে পর জানতে পান তার স্বামী হরিপদ সাহার সাথেও সুলতানের বেশ সখ্যতাছিল। এমন কথাই বলেছিলেন ২০১৭ সালে ২৬ জুন বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী এসএমসুলতানের কন্যাখ্যাত নিহারবালা সাহা। কথোপকথনে জানতে চেয়েছিলেম, সুলতান কেন নারীরূপ ধারণ করতেন, সাধারণ মানুষের সাথে মিশতে পছন্দ করতেন আর বিয়ে না করার নেপথ্যে কোন ঘটনা রয়েছে কিনা এমন কিছু বিষয়ে। কমতো নয়; বাল্যকালেতো দেখেছেন বটে তারপর ৩৫টি বছর অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে সুলতানের মৃত্যু অবধি শিল্পীকে দেখভাল করেছেন। প্রায় ৩ যুগের স্মৃতি নিয়ে আমার সাথে কথা বলার সময় ৯৩ বছরের নিহারবালাও বলেছিলেন-তিনি এখন সুলতান কাকুর অপেক্ষায়।
কলকাতা আর্ট কলেজের পাঠ শেষ না হতেই সুলতানের বিবাগীমন বেড়িয়েপড়েন, ছবি আঁকেন এদেশ থেকে ওদেশ ঘুড়ে। এরপর ১৯৫৩ সালে নিজ গায়ে ফিরেন। ওসময় নড়াইল শহরের মুচির পোলে, গোডাউনে শ্রমিকদের সাথে বেশ করে মিশতেন। কোমড় অবধি চুল আর বসন দেখে পাগল বলে ইটপাটকেলের আঘাত সইতে হয়েছে। নড়াইল জমিদারদের প্রতিষ্ঠিত সর্বমঙ্গলা কালি মন্দিরের বারান্দায় গিয়ে বসে থাকতেন অনেকটা সময়। নিহার বালা বলেন, একদিন মন্দিরের পুরোহিত টুগলা ঠাকুরকে মা কালি স্বপ্ন দেখান ‘লাল এসে তাঁর মন্দিরে যেন বাঁশি বাজায়’।  তাই করেছিলেন এসএম সুলতান। তাঁর চিড়িয়াখানায় পাঁচ হাত লম্বা বিষধর সাপ ছিল। একদিন নিহার বালা রান্না করতে গিয়ে দেখেন বিষধর সাপ ফণা তুলে আছে। কাকু এসে চলে যেতে বলতেই সাপটি ফণা গুটিয়ে চলে গেল। তাঁর সম্মোহনি শক্তি ছিল বেশ। কোন কোন দিন ঘরে কিচ্ছু নেই রান্না হবে কি করে, সাথে চিড়িয়াখানার প্রাণিদের খাবার যোগান হবে ক্যামনে? এমন সময় কাকু চিন্তা করতে মানা করতেন। সত্যিই কিভাবে যেন টাকার জোগান হয়ে যেত!
কাকু শিশুদের পাশাপাশি গাছপালা, জীবজন্তু খুউব পছন্দ করতেন। নাটক করতেন, কুচি দিয়ে শাড়ি পড়তেন। পায়ে ঘুঙুর বেঁধে বাঁশি নিয়ে বের হয়ে যেতেন। যার অর্থ এক খেয়ালী মানুষ বইতো তাঁর মনে। নারীদের বেশ সম্মান করতেন। বলতেন-‘মায়ের জাত নীচু করতে নেই’। দেখেন আমার মেয়ে পদ্ম এখন অসুস্থ। সুলতান কাকু বেঁচে থাকলে কোথায় কোথায় চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতেন।
এমন কথার ফাঁকেই জানতে চাইলুম, এসএম সুলতান বিয়ে করেননি কেন? নিহার বালার জবাব ছিল-বিয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেই কাকু বলেছিলেন, আমি বিয়ে করেছি জানেন না। এই বলে ছবি দেখায়ে দিতেন। তখন নিহার বালা পাল্টা উত্তর করতেন-এতো ভাত রেধে দিতে পারেনা।
সুলতানের সান্ত্বনার জবাব-‘বিয়ে করলে সংসারে ছবি আঁকা যায় না’। সম্ভবত কাকুর দেখানো পথ ধরেই তাঁর সাথে ছবি আঁকতে গিয়ে আমার ছোট ভাই দুলাল সাহাও অকৃতদার হয়ে ২০১৪ সালে মারা যায়। তাছাড়া কাকুর বাল্যকালে অভাবের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর এক সৎভাই ছিলেন বটে; তবে বোহেমিয়ান জীবনের সমাপ্তি টেনে সংসারী করাতে পারেনি। অক্ষেপ নিয়ে বললেন, নামেই কেবল সুলতান; পিছনে ফকির করে রাখা হয়েছে কাকুকে। যেমন ডিগ্রী না থাকায় ১৯৫৩ সালে ঢাকা থেকে অবহেলিত হয়ে শিক্ষিত সমাজ থেকে নিম্ন স্তরে চলে আসেন। যশোরের পালপাড়া বস্তি, এমএম কলেজের পুরানো হোস্টেলে থেকেছেন। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলার পর ১৯৮৩ সালে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে সাভারে পুকুরসমেত ৩ তলার বাড়ি। ঠিক ৪ দিন পর ট্রাক ডেকে মালামাল ভর্তি করে সবাইকে নিয়ে ফের নড়াইলে চলে আসা। তাঁর উক্তি ছিল-‘ইট পাথরের মধ্যে থাকবো না’। নিহার বালা প্রশ্ন তুলেছিলেন,তাহলে জল খেতে ভাঙ্গা দালানেই যাবেন? এসএম সুলতানের জবাব-‘ভাঙ্গা দালানেই কত শান্তি’।
শেখ মহম্মদ সুলতানের ছবি নিয়ে নিহার বালা বলেন, বিমূর্ত ধারার ছবি কথা বলে না। কাকু বাস্তব ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন। কৃষিনির্ভর দেশ বলে বলতেন-‘কৃষকের ফলানো ফসল খেয়ে আমরা মোটাহচ্ছি। কৃষকদের কেন দুর্বল করে দেখাবো’। তিনি কৃষক, জেলে, জেলেবউ এদের ছবি আঁকতেন। আর বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই ছবি আঁকতে হবে এই চিন্তা থেকেই শিশুদের জন্য ‘শিশু স্বর্গ’ নামক নৌকা তৈরী। এই নৌকায় শিশুদের নিয়ে কাকু সকাল থেকে বেড়িয়ে গাজীর হাট থেকে খুলনা হয়ে ফের সন্ধ্যা নাগাদ ফিরতেন। প্রকৃতি দেখে ছবি আঁকা শিখানো হতো শিশুদের। এমন মানুষ এসএম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মৃত্যুর আগে কাকু বলেছিলেন-হিন্দু মানুষের কাছে থাকি কেউ সমাধিতে আসবেনা। তবে আপনি, দুলাল, বাসনা আর পদ্মমিলে আমার মৃতদেহ গাছের নীচে মাটিচাপা দিয়ে রাখবেন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সমাধির পাশে সুলতান কাকুকে সমাহিত করা হবে। কিন্তু নিহার বালা এসএম সুলতানের মৃতদেহ নিয়ে আসেন কুড়িগ্রামে। লোক ডেকে এনে জানাযা পড়ায়ে সমাহিত করেন।
ফের স্মৃতিচারণ, রক্ত আমাশয় হলে মুচির পোলে পড়েছিলেন সুলতান কাকু। আমি কিছুটা নাসিংয়ের কাজ জানতাম। মোল্লা সাইদুর মিয়া আমায় বলেছিলেন, নিহার তুমি গিয়ে একটু দেখো। ওই থেকে মৃত্যু অবধি কাকু আমাদের পরিবারের সাথে। কোথায়ও কোন খাবার দিলে পকেট পুরে আমার মেয়েদের জন্য নিয়ে আসতেন। এমন কত স্মৃতিকথা। এ সময় নিহার বালার শীর্ণ শরীর আর নব্বই পেড়ুনো বয়সের ভাড়ে ফিকে হয়ে আসা ধূসর চোখে অপলক দৃষ্টি। গলা ধরে আসায় কিছুটা ভাড়ি স্বরে বলেন, কাকু দেবতুল্য মানুষ। কখনো অসম্মান করে কথা বলেননি। রাগ করেননি কোনদিনও। অমন মানুষের দেখা মেলাভাড়। কথোপকথনের ঠিক পাঁচবছর পর এই লেখা। জেনেছি  ৯৮ বছর বয়স নিয়ে অসুস্থ হয়ে বেঁচে আছেন নিহার বালা।

সুলতান কাকুর অপেক্ষায় নিহারবালা

বিস্তারিত....

প্রবাসে-বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ভারতে পাচার হওয়া ৫ বাংলাদেশী নাগরিক ৩ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলাকে যশোরের বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ।

ইং ১১/১/২৩ তাং বুধবার বিকালে তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়।

ফেরত আসা বাংলাদেশী পাচারকৃতরা হলো মোঃ আজিম ভুইয়া (৩৪), জেলা-নরসিংন্দি (২) আহমেদ আল ফাহাদ (২৫), জেলাঃ ময়মনসিংহ (৩) মোঃ টুটুল (৩০), জেলাঃ গোপালগঞ্জ (৪) মোঃ মুনিয়া খাতুন (২৮) জেলাঃ যশোর (৫) মোঃ মুস্সাদ মমতা (৫৬), জেলাঃ রাজবাড়ী।
তারা যশোর,হিলি,আগরতলা,মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের পর ভারতীয় পুলিশ কর্তৃক আটক হয়। পরে তাদের ১,২,৩ নং কে বীরপুর কারাগারে ২০১২ সাল হতে,পাটনা কারাগার ২০১৫ সাল হতে ও শ্রীবাস মন্ডল কারাগার ২০১৬ সাল হতে এবং ৪,৫ নং করোনা বস্তি পাঠাননগর, চকোরিয়া,নাগপুর এ সেভ হোম শেষে আজ ১১ জানুয়ারী ২০২৩ তারিখ বিকালে বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে হস্তান্তর করেন ভারতীয় পুলিশ।
ইমিগ্রেশন বেনাপোল চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন পাচার হওয়া বাংলাদেশী ৫ জন কে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।তাদেরকে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

ভারতে পাচার হওয়া ৫ বাংলাদেশি নাগরিককে বেনাপোল দিয়ে দেশে হস্তান্তর

বিস্তারিত....

Top