সংবাদ শিরোনামঃ
দেবহাটার কোমরপুর দাখিল মাদ্রাসার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি আব্দুল খালেক শ্যামনগরে নিরাপত্তাহীনতায় দু’ই হিন্দু পরিবার, থানায় লিখিত অভিযোগ দেবহাটা উপজেলার বসুখালী খাল পুনঃখনন কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন এখন অর্ডার নেওয়া হচ্ছে সুস্বাদু গোবিন্দভোগ আমের। সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে এক মৌয়াল আহত সাজিদা হত্যার চব্বিশ ঘন্টা না যেতেই পিতার মৃত্যুতে এলাকায় শোক শ্যামনগরে সুন্দরবন সুরক্ষায় আর্থস্কাউট স্কুল ক্যাম্পেইন শ্যামনগরে পুত্র কর্তৃক বৃদ্ধ পিতাকে মারধরের অভিযোগ কয়রায় দূর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ নারী-শিশুর সুপেয় পানির দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান দেবহাটার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্য নজরুল ইসলামের ইন্তেকাল
গাবুরা খাদ্যবান্ধব ডিলার বিরুদ্ধে প্রশ্নের ঝড় উঠছে, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব

গাবুরা খাদ্যবান্ধব ডিলার বিরুদ্ধে প্রশ্নের ঝড় উঠছে, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব

শ্যামনগর উপজেলায় হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ নিয়ে প্রশ্নের ঝড় উঠছে, এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। গাবুরা ইউনিয়নের সাতটি ডিলারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উপকারভোগীদের। গাবুরায় ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে উপকারভোগীর সংখ্যা হলেন, চার হজার চারশত চল্লিশ টি। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ভোক্তাদের মাঝে সরকারি সকল সুযোগ পৌঁছে দিতে এই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়। অসহায় মানুষের ১৫ টাকা মূল্য চাউল পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। মানুষের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে গাবুরা ডিলাররা তাদের প্রভাব খাটিয়া নানা কৌশলে বেশি মুনাফা আদায় করেছেন।
গাবুরা ইউনিয়নের ডিলারা প্রতি মাসে চার হজার চারশত চল্লিশ বস্তা চাল বরাদ্দ পান। নিয়ম অনুযায়ী একজন কার্ডধারীকে প্রতি কেজি পুনারো টাকা দরে ত্রিশ কেজি চাল দেওয়ার কথা। চাল বিতরণ করার সময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস ও ট্যাক অফিসারের যোগসাজশে চাউল বিতরণ করার সময় এই কার্ড পরিবর্তনের কথা জানিয়ে এক শত থেকে এক শত পঞ্চাশ টা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ও চারশত পঞ্চাশ টাকার পরিবর্তে নিচ্ছে চার শত সত্তর থেকে পাঁচশত টাকা ।
গাবুরা ইউনিয়নের ডিলার , নাপিতখালী, মা-বাবার দোয়া ইন্টারপ্রাইজ, (সালাউদ্দিন)। চকবারা, বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ, (মনজুরুল এলাহী মিলন)। চাঁদনিমুখা এলাকায় মেসার্স অহিদুর জামান ইন্টারপ্রাইজ, (ওয়াহিদুজ্জামান অপু)। ডুমুরিয়া বাজার, শেখ এন্টারপ্রাইজ (আজনুর নাহার কুইন)। ডুমুরিয়া খেয়া ঘাটে, মাহি এন্টারপ্রাইজ, (মোঃ আব্দুল বারিক শেখ)। গাবুরা বাজার, জামান এন্টারপ্রাইজ, (মোহাম্মদ শহিদুল)। চৌদ্দোরশি এলাকায় ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ (মোহাম্মদ মারুফ বিল্লাহ)। দের বিরুদ্ধে নানা বিধি অভিযোগ রয়েছে।

সরজমিনে ঘুরে যানাগেছে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নাপিতখালী এলাকায় মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার সালাউদ্দিন এর বিরুদ্ধে চাউল কম দেওয়া, চাউলের টাকা বেশি নেওয়া, কার্ড পরিবর্তনের কথা বলে প্রতি কার্ডে ১০০ টাকা নেওয়া সহ নানা বিধি অভিযোগ রয়েছে । আকলিমা খাতুন স্বামী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার কাছথেকে চাউলের দাম নিয়েছে চারশত সত্তর টাকা, কার্ড পরিবর্তন এর জন্য নিয়েছে আশি টাকা, প্রতিবার চাউল কম দেয় এক থেকে দেড় কেজি। মো: শহীদুল্যাহ গাজীর পুত্র সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষে পেয়ে এক কেজি চাউল কম দিচ্ছে, টাকা নিচ্ছে দামছাড়া বেশি ত্রিশ টাকা পাঁচশ টাকা দিছি ফিরত দিয়েছে বিশ টাকা। কার্ড এর জন্য নিছে আবার। এরশাদ গাইন এর একই অভিযোগ। দিনমজুর আব্দুল বারীর পুত্র জিয়াউর রহমান একই অভিযোগ করে বলেন, আমাদের একদিন কাজ বন্ধ করে আসতে হয়, সরকারের উদ্দেশ্য পূরণ না করে প্রভাবশালীদের পকেট ভর্তি করছে তারা। এই দুর্নীতি কি কোন দিন বন্ধ হবে? আমরা কিছু বলতেগেলে কার্ড বাতিল করার ভয় দেখায়। বলে তোমরা যদি কারো সাথে বলে দাও তাহলে তোমাকে কার্ড বাতিল হয়ে গেলে আমি কিন্তু দায়ী না।
সরজমিনে দেখাযায় নাপিতখালি বাজারে মা-বাবার দোয়া ইন্টারপ্রাইজ নামে কোন দোকান ঘর নেই। সালাউদ্দিন রাকিব মেডিকেল এর ঘর ব্যাবহার করে চাউল বিতরণ করে। গ্রাম ডাক্তার আবুজার জানান, নাপিতখালি বাজারে চাউল বিতরণ কোন যায়গা না থাকায় আমার ঔষধের ঘর ব্যাবহার করে, আমি ওনার কাছথেকে কোন ভাড়া নেই না এলাকার মানুষের সুবিধার্থে রাখতে দেই।

গাবুরা ইউনিয়নের ৫ নাম্বারের ইউপি সদস্য মশিউর রহমান চাউল বিতরণ অনিয়ম এর কথা শিকার করে বলেন, নাপিত খালিতে চাউল দেওয়ার সময় ৪৫০ টাকার পরিবর্তে নিচ্ছে ৪৭০ টাকা এবং কার্ড পরিবর্তনের কথা বলে অফিসের দোহাই দিয়ে নিচ্ছে ১০০ টাকা।
অভিযোগকারীরা জানান, অনেক কার্ডধারী জানেনই না তাদের নামে কার্ড আছে।

উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকতা ( ট্যাক অফিসার ) আমজাদ হুসাইন জানান আমি অল্প কিছুদিন ওখানে ট্যাক অফিসার হিসেবে আছি। আপনি যে সকল অভিযোগের কথা বললেন আমি তদন্ত করে দেখব, টাকা পয়সা নিচে কিনা এবং তাদের ওখানে স্থানীয় কোন প্রতিষ্ঠান আছে কিনা, যদি না থাকে এবং ভুক্তভোগীরা কেউ যদি বলে আমি ইউএনও মহোদয়ের কাছে প্রতিবেদন আকারে দেবো ওই ডিলারের ডিলিয়ারি যেনো বাতিল হয়ে যায়।

আমার এখানে উপকারভোগী ৪৯০ জন, মৃত আছে কতজন জানা নেই, বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তের যেকোনো অফিস মহোদয়দের নিয়ে আসেন আমি পাঁচশ লোক সবাই কে ডাকবো তারা ভালোভাবে পাচ্ছে কিনা। আমি তাদের কাছ থেকে দেড়শ টাকা নিচ্ছি না। আপনি ওটা ভুল বলেছেন আমি তাদের কাছ থেকে আশি টাকা করে নিচ্ছি। আমি তাদের ফাঁকি দিয়ে নিচ্ছি কিনা, এত একজনের বিষয় না পাঁচশ মানুষের। আমি মানুষের ভয় পায় না আমি আল্লাহ ছাড়া কারো ভয় পায় না। আপনি টিভির ভিডিও টিভি নিয়ে আসেন,আমি যদি খারাপ করি তাহলে মিডিয়ার ভিতরে দেন, আমি যদি খারাপ করি প্রশাসনের বিভাগ সরকার একটা মামলা করবে আমার নামে। টাকা বেশি নিচ্ছেন জানতে চাইলে ক্ষেপে যেয়ে বলেন আপনি আমার সামনে আসেন, পাশে আসেন আপনি দূর থেকে ফোন দিয়ে পাশে আসেন দূর থেকে কথা বলা যায় না। আপনার বাড়ি কোথায় আমার বাড়ি শ্যামনগর পশু হাসপাতালে পাশে আমার নাম সালাউদ্দিন বাবার নাম মৃত আব্দুল হায় মেম্বার। আপনি আমার সামনে আসেন আমার জন্ম গাবুরা আমি শ্যামনগরে মানুষ।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বলেন এধরনের অভিযোগের সাথ আমার অফিসের কেউ যদি জড়িত থাকে বা সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *