রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহীর তানোরে টানা ভারী বর্ষনের কারনে বন্যায় ডুবতেই আছে কৃষককের
রক্তঘামের ফসল রোপা আমন ধান। প্রায় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষন হয়েছে। যার কারনে ঘরবন্দী হয়ে পড়ে জনসাধারণ। টানা বৃষ্টির কারনে উজান থেকে আসা পানির ঢলে গ্রামীন রাস্তা ঘাট ও গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে তানোর উপজেলার চান্দুড়িয়া, কামারগা, পাঁচন্দর ও কলমা ইউনিয়ন এবং তানোর পৌরসভায় রোপা আমন ধান ডুবেছে, ডুবতেই আছে। তবে বৃষ্টি কমার কোন সম্ভব না দেখা যাচ্ছে না। ফলে উপজেলার জনসাধারণের একমাত্র উপার্জনের উপায় রোপা আমন ধান ডুবতেই আছে। একারণে হতাশায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের।
জানা যায়, রোপা আমন রোপনের সময় বৃষ্টির পানির দেখা ছিল না। আষাঢ়, শ্রামন ও ভাদ্রা মাসেও এত পরিমান বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু আশ্বিন মাসের প্রথম দিকে তেমন বৃষ্টি না হলে প্রায় গত ৮/১০ দিন ধরে মাঝারি ভারি বৃষ্টি হতেই আছে । সবচেয়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয় বুধবার রাত ্রপ্রায় ৯ টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় তিনটা পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষন হয়েছে। এবৃষ্টিতেই বিলকুমারী বিলের পানি বাড়তেই আছে। শুধু তাই না উজান থেকে নামতেই আছে পানির স্রোত। যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই থইথই করছে পানি। প্রতিটি ব্রীজের মুখ দিয়ে নামতেই আছে স্রোত। কৃষকরা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বৃষ্টি থামলেও আকাশে প্রচন্ড মেঘ। হয়তো রাত থেকেই আবার শুরু হবে পানি। যে পরিমান পানি হয়েছে বছরের মধ্যে এত পরিমান বৃষ্টি হয়নি। নিচের জমিগুলো ডুবে যাবে। রোপা আমনের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হবে যা আমাদের সর্বনাশ। শুধু রোপা আমনের ক্ষতি না পুকুরের মাছ বের হয়েছে প্রচুর পরিমানে। টানা বৃষ্টির কারনে সবজি খেতও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামারগাঁ শ্রীখা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, যে হারে পানি বাড়তে শুরু করেছে তাতে করে এই ইউপির রোপা আমনের ফলন পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। বর্তমানে ইউপির ১৫/২০% জমির ধান ডুবে গেছে। আর কয়েকদিন বৃষ্টি হলে এপরিমান বেড়ে কয়েকগুণ হবে।
কারণ আরও কয়েকদিন টানা বর্ষন হবে বলে আবহাওয়া অফিস বলছে। ধান ডুবার সঠিক হিসেব নিতে হলে দু তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, কামারগাঁ বøকের কামারগাঁ ৩০ হেক্টর, মাদারিপুর ৮ হেক্টর, ছাঐড় ১৪ হেক্টর, কৃষ্ণপুর ৫ হেক্টর ও পাঁচন্দর বøকের মোহাম্মদ পুর ৭ হেক্টর, চাঁদপুর ১০ হেক্টর এবং চান্দুড়িয়া বøকের চান্দুড়িয়া ১৫ হেক্টর সিলিমপুর ৫ হেক্টর। তানোর পৌরসভায় ১১০ হেক্টর। সব মিলে ২০৩ হেক্টর রোপা আমন ধান ডুবেছে এর মধ্যে আংশিক ১৫৭ হেক্টর ও পুরোপুরি ডুবেছে ৪৬ হেক্টর। তবে কলমা ইউপির আজিজপুর, চন্দনকোঠা, কুজিশহর সহ ওই ইউপির ধান ডুবার কোন তথ্য দিতে পারেন নি কৃষি অফিস।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, উপজেলায় রোপা আমনের চাষাবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে। তবে ধান ডুবেছে পুরোপুরি ভাবে ৪৬ হেক্টর এবং আংশিক ডুবছে ১৫৭ হেক্টর জমি। অবশ্য বৃষ্টির পানি একেবারে থেমে গেলে এর সঠিক হিসেব পাওয়া যাবে। যে সব জমি ডুবেছে এবং পানি ঢুকেছে সে সব জমি থেকে তিন চার দিনের মধ্যে পানি বের হলে ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু এর চেয়ে বেশি সময় পার হলে ধান হবে না।
Leave a Reply