আল-হুদা মালী: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করে গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষিতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা। আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালি বালুর মাঠে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
জলবায়ু অভিঘাত পেরিয়ে গ্রামীন নারী ক্ষমতায়ন ও সমৃদ্ধির পথে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নের নারী দলের সদস্যদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা বাস্তবায়িত হয় কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি—সিআরইএ প্রকল্পের আওতায়। এতে সহযোগিতা করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও সুইডেন দূতাবাস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্যানেল চেয়ারম্যান জি এম আব্দুর রউফ। প্রধান অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সম্পাদক সাংবাদিক হুদা মালী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সমাজসেবক জি এম রুস্তম আলী, ফেইথ ইন অ্যাকশনের জেন্ডার অফিসার নয়মী বিশ্বাস, সিসিডিবির পিসিআরসিবি প্রকল্পের সহসভাপতি মিনতি রানী মল্লিক, মেঘনা নারী দলের সভাপতি নার্গিস সুলতানা, দোলনচাঁপা নারী দলের সহসভাপতি জেবুন্নেছা খাতুন এবং সিআরইএ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত অধিকারী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা সুলতা রানী সাহা। এ সময় সিআরইএ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নারী দলের সদস্যরা চারটি স্টলে তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি ফেইথ ইন অ্যাকশন ও সিসিডিবির নারী দলের সদস্যরা আরও দুটি স্টলে বিভিন্ন কৃষিপণ্য উপস্থাপন করেন। এসব স্টলে নারীদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। মেলায় অংশ নেওয়া নারী উদ্যোক্তারা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য তুলে ধরার পাশাপাশি কৃষিকাজে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনার কথা জানান।
অনুষ্ঠানে নারী দলের সদস্য নার্গিস সুলতানা, মিনতি রানী মল্লিক ও জেবুন্নেছা খাতুন তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তাঁরা গ্রামীণ নারীদের কৃষিকাজে অবদান, নানা প্রতিবন্ধকতা এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয় তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ খাতের উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ নারীরা কৃষি উৎপাদন, বীজ সংরক্ষণ, শাকসবজি চাষসহ নানা কর্মকাণ্ডে অবদান রাখলেও তাঁদের কাজ অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। নারীদের এই অবদানকে মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে গ্রামীণ নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষি উপকরণে সহজ প্রবেশাধিকার এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মেলা শেষে অতিথিরা প্রতিটি স্টল পরিদর্শন করেন। তাঁরা প্রদর্শনকারী নারীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন এবং স্টল থেকে বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের কৃষিকাজে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের পরিচিতি ও বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
Leave a Reply