সংবাদ শিরোনামঃ
কয়রায় বীজ বাড়ির উপকরণ বিতরণ ও অনুদানের চেক হস্তান্তর শ্যামনগরে জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি প্রকল্পের অংশগ্রহণমূলক শিখন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুধর্ষ চুরিঃ খোয়া গেছে মূল্যবান কাগজপত্র ও মালামাল  দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত গড়ার ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার ব্যাক্ত করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ আলমগীর হোসেন শ্যামনগরে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে গণতান্ত্রিক সংলাপ অনুষ্ঠিত কয়রায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিক রিয়াজুলকে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বুড়িগোয়ালিনীতে লির্ডাসের আয়োজনে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা তে নানা আয়োজনে পালিত হলো বিশ্ব বাঘ দিবস মাদকের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান নীলডুমুর ১৭ বিজিবি কতৃক আটককৃত ৩১ কোটি ৯৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে 
তীব্র গরমে নাজেহাল উপকূলবাসী, বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুণছেন খেটে খাওয়া মানুষ

তীব্র গরমে নাজেহাল উপকূলবাসী, বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুণছেন খেটে খাওয়া মানুষ

এম এ হালিম শ্যামনগর থেকেঃ

তীব্র তাপদাহ ও অসহনীয় গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় জনপদের জনজীবন। বিশেষ করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন পার করছেন। প্রচণ্ড রোদ, গরম বাতাস ও আর্দ্রতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির দেখা না মেলায় দিন দিন কষ্ট আরও বাড়ছে।

সকালের সূর্য ওঠার পর থেকেই তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষক, জেলে, ভ্যানচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ। জীবিকার তাগিদে তাদেরকে প্রচণ্ড রোদের মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলার এক দিনমজুর আব্দুল করিম বলেন, “সকাল থেকে কাজ করছি, কিন্তু গরমে শরীর টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার পানি খেতে হচ্ছে। তারপরও মাথা ঘোরা ও দুর্বল লাগছে।”

বুড়িগোয়ালিনী এলাকার জেলে মো. সাত্তার গাজী বলেন, “নদীতে কাজ করতে গেলেও গরমে কষ্ট হচ্ছে। বাতাস নেই, গরমে শরীর জ্বলে যাচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে স্বস্তি মিলত।”

স্থানীয় কৃষকরাও জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় জমির মাটিতে আর্দ্রতা কমে যাচ্ছে। অনেক স্থানে সবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গবাদিপশুরাও গরমে কাহিল হয়ে পড়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এদিকে আকাশে মাঝে মাঝে মেঘ দেখা গেলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। ফলে উপকূলবাসীর একটাই প্রত্যাশা—এক পশলা বৃষ্টি। বৃষ্টির আশায় দিন গুনছেন হাজারো মানুষ। তাদের আশা, দ্রুত বৃষ্টি হলে তীব্র গরম থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসবে এবং জনজীবন আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

স্থানীয়দের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সচেতন মহল।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *