এম এ হালিম শ্যামনগর থেকেঃ
তীব্র তাপদাহ ও অসহনীয় গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় জনপদের জনজীবন। বিশেষ করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন পার করছেন। প্রচণ্ড রোদ, গরম বাতাস ও আর্দ্রতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির দেখা না মেলায় দিন দিন কষ্ট আরও বাড়ছে।
সকালের সূর্য ওঠার পর থেকেই তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষক, জেলে, ভ্যানচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ। জীবিকার তাগিদে তাদেরকে প্রচণ্ড রোদের মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলার এক দিনমজুর আব্দুল করিম বলেন, “সকাল থেকে কাজ করছি, কিন্তু গরমে শরীর টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার পানি খেতে হচ্ছে। তারপরও মাথা ঘোরা ও দুর্বল লাগছে।”
বুড়িগোয়ালিনী এলাকার জেলে মো. সাত্তার গাজী বলেন, “নদীতে কাজ করতে গেলেও গরমে কষ্ট হচ্ছে। বাতাস নেই, গরমে শরীর জ্বলে যাচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে স্বস্তি মিলত।”
স্থানীয় কৃষকরাও জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় জমির মাটিতে আর্দ্রতা কমে যাচ্ছে। অনেক স্থানে সবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গবাদিপশুরাও গরমে কাহিল হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে আকাশে মাঝে মাঝে মেঘ দেখা গেলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। ফলে উপকূলবাসীর একটাই প্রত্যাশা—এক পশলা বৃষ্টি। বৃষ্টির আশায় দিন গুনছেন হাজারো মানুষ। তাদের আশা, দ্রুত বৃষ্টি হলে তীব্র গরম থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসবে এবং জনজীবন আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
স্থানীয়দের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সচেতন মহল।
সম্পাদকঃ এম এ হালিম, মোবাইল: ০১৯১১-৪৫১৬৯৭,০১৭৮১১৫৮৯২৯ , Email- halim.nildumur@gmail.com.