এম এ হালিমঃ
নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ ১৪৯ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা নিয়মিত টহল পরিচালনার মাধ্যমে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। এই বিস্তীর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ১৯ টি বিওপি’র মাধ্যমে প্রতিদিন দিবারাত্রি ৭৬ টি টহল পরিচালনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পরানপুর বিওপি কর্তৃক ১২,৬৮,০০০/- টাকার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে খানজিয়া বিওপি কর্তৃক ১৫,৫৬,০০০/- টাকার, ০৫ মে ২০২৬ তারিখে টাউনশ্রীপুর বিওপি কর্তৃক ৩,০৪,৮০০/-টাকাসহ সর্বমোট ৩১,২৮,৮০০/- টাকার বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য আটক করা হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিজিবি এবং র্যাব যৌথ অভিযান পরিচালনা করে গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ০২ জন আসামীসহ ১৬৪৯ বোতল ভারতীয় উইনসিরিক্স সিরাপ এবং ০১ মে ২০২৬ তারিখ ০২ জন আসামীসহ ৭০২ বোতল ভারতীয় উইন কোরস সিরাপ আটক করা হয়।
আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি; অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট স্থাপন, সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কড়া নজরদারি এবং চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিজিবি’র একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের সহযোগিতা অত্যান্ত জরুরী। সীমান্তবর্তী জনসাধারণের সহযোগিতার অভাবে অনেক সময় বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এবং চোরাচালানী মালামাল দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তা আটক হয়।

পার্শ্ববর্তী দেশে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারীসহ টহল তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক, লেঃ কর্নেল মোঃ শাহারিয়ার রাজীব, পিএসসি জানান বিজিবি মহাপরিচালক মহোদয়ের ভিশন- ‘বিজিবি হবে সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিটি সদস্য সর্বদা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্তে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাসহ চলমান ভোজ্য ও জ্বালানি তেল মজুদ এবং পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ; তাই আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
Leave a Reply