সংবাদ শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় রোগীর খাবার খেয়ে সন্তুষ্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী বারসিক’র উদ্যোগে প্রাণী স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বিষ দিয়ে মাছ শিকার, ২৯০ কেজি চিংড়ি বিক্রির অভিযোগ কয়রায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মৎস্যঘের দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এমপি শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনীতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত, নওয়াবেঁকি মিতালী সংঘের ২-০ গোলের জয় শ্যামনগর গাবুরার কাজীর বিরুদ্ধে ভুয়া বিবাহ নিবন্ধনের অভিযোগ, এমপি নজরুলের বিয়ে নিবন্ধন নিয়ে নতুন বিতর্ক সুন্দরবন বন্ধ, নাকি খোলা? বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনী নৌ পুলিশের অভিযানে ৫০ হাজার বাগদা-গলদা রেণু পোনা জব্দ, নদীতে অবমুক্ত নওয়াঁবেকি থেকে উদ্ধার করা ৭৭ বস্তা ঝিনুক সুন্দরবন সংলগ্ন মালঞ্চ নদীতে অবমুক্ত করেছে বনবিভাগ
শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনীতে নদীর চরে গাছ কেটে মাটিচাপা

শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনীতে নদীর চরে গাছ কেটে মাটিচাপা

জহিরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালিনী।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব দূর্গাবাটী নদীর চরে ছোট-বড় হাজারো গাছ কেটে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়রা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর চরে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, বিশেষ করে উপকূলীয় পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গাছগুলো নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে। এরপর সেগুলো মাটিচাপা দিয়ে ভরাটের কাজ চালানো হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই গাছগুলো উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলার ফলে নদীর চর দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এর প্রভাব পড়বে পাশের পানি রক্ষা বেড়িবাঁধের উপরেও।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, “এইভাবে গাছ কেটে ফেললে আমাদের এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের বসতভিটা রক্ষা করা কঠিন হবে।
নদীর চরে গাছ কেটে বাঁধ দেওয়ার বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন আমি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব থাকলে ও আমার ইউনিয়নে নদীর চরের গাছ কেটে বোলাক বানানোর জন্য মাঠ করা হচ্ছে আমারা জানিনা। তিনি আরো বলেন কে বা কারা অনুমতি দিয়েছে চরের শত বছর বয়সি গাছ এভাবে কেটে নষ্ট করে দিতে এই প্রশ্ন প্রশাসনের কাছে আমার। চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষভাবে আহ্বান করেন নদীর চরের আর একটি গাছ কাটা যাতে না হয়।
এ বিষয়ে ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশ এর সভাপতি আব্দুল হালিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংস করা হলে দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তারা দ্রুত এ কার্যক্রম বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়রা প্রশাসন ও বন বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে করে অবৈধভাবে গাছ নিধন বন্ধ করা যায় এবং উপকূলীয় পরিবেশ ও বেড়িবাঁধ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিষয় টি জানতে পারার পরেই সাথে সাথে আমরা  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *