সংবাদ শিরোনামঃ
দেবহাটা উপজেলায় এলএফও সদস্যদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা স্মার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মঙ্গলবার পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা দেবহাটায় সিআর মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী আবু হাসান, সকলের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশী কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী সভা অনুষ্ঠিত সুন্দরবনে বনদস্যু বাবুর জিম্মিদশা থেকে ১০ দিন পর ফিরলেন বুড়িগোয়ালিনীর জেলে, মুক্তিপণ ৮০ হাজার টাকা স্মার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সোমবার পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা বুড়িগোয়ালিনীতে মতবিনিময় করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোল্লা হযরত আলী
সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য, হুমকিতে পরিবেশ ও সুন্দরবন, অভিযোগ স্থানীয়দের 

সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য, হুমকিতে পরিবেশ ও সুন্দরবন, অভিযোগ স্থানীয়দের 

এম এ হালিম।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন বাজার ও জনবসতি এলাকার নদীতে প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেটসহ নানা ধরনের অপচনশীল বর্জ্য। এতে নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী, মাছ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বাড়ছে ক্ষতিকর প্রভাব। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য জমতে থাকায় উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন বাজার ও নদীতীরবর্তী এলাকায় জনসচেতনতার অভাব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং অসতর্কভাবে ময়লা ফেলার কারণে নদী দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে। বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিকসামগ্রী অনেক সময় নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে নদী, খাল কিংবা নদীর তীরে ফেলা হয়। জোয়ার-ভাটার পানিতে এসব বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে নদী ও সুন্দরবনের গভীরে।
পরিবেশের জন্য প্লাস্টিক বর্জ্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। অধিকাংশ প্রচলিত প্লাস্টিক সহজে পচে মাটির সঙ্গে মিশে যায় না। সময়ের সঙ্গে এগুলো ভেঙে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণায় পরিণত হতে পারে, যা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর দেহে প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি করে। এ ছাড়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া, পানির গুণগত মান কমে যাওয়া এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ে।
সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও প্লাস্টিক জাতীয বর্জ্য ফেলে যে ক্ষতি করছেন এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সরকারি বন সংরক্ষক, শাহিনুর ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরো বলেন,
 সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ গাছপালা কার্বন ধারণ করে এবং উপকূলকে ঢেউ ও ঝড়ের প্রভাব থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে। তাই এই বন ও এর সঙ্গে সংযুক্ত নদী-খালের পরিবেশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।প্লাস্টিক বর্জ্য নদীতে ফেলা জলবায়ু পরিবর্তনের একমাত্র বা প্রধান কারণ নয়। তবে প্লাস্টিকের উৎপাদন, ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হতে পারে। অন্যদিকে, নদী ও বনাঞ্চলে বর্জ্য জমে থাকা বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের দূষণ পরিবেশগত সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই আসুন আমরা সবাই সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য খোলা বন্ধ করি সুন্দরবন কে বাঁচাই।
সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে ও খালে অপচনশীল বর্জ্য ফেল্লে,
জীবিকা ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি আছে কিনা এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ইয়ত ফর বাংলাদেশ এর মুখ্য সংগঠক ইমাম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বহু মানুষ মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, কৃষিকাজ ও বনজ সম্পদের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নদী দূষিত হলে মাছ ও অন্যান্য জলজ সম্পদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে দূষিত পানি, দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বেসরকারি সংস্থা সিসিডিবি এর উপজেলা সমন্বয়কারী, কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়ে বলেন,
পরিবেশ রক্ষায় সুন্দরবনসংলগ্ন বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বাজার কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচার, নদীতীর পরিষ্কার অভিযান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়মিত তদারকি চালু করা গেলে দূষণ কমানো সম্ভব। সুন্দরবন ও নদী রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের প্রত্যাশা
সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক সুরক্ষার অন্যতম অবলম্বন। তাই নদীকে প্লাস্টিক বর্জ্যমুক্ত রাখা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।
সুন্দরবনসংলগ্ন নদী ও বাজারগুলোকে প্লাস্টিক বর্জ্যমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জরুরী প্রয়োজন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *