আটুলীয়া (শ্যামনগর) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার খোলপাটুয়া নদী থেকে রাতের আঁধারে কয়েকটি বাল্কহেডে করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রতিদিন রাতে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজার ও পাইপের মাধ্যমে বালু তুলে বাল্কহেডে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সরেজমিনে উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের বড়কুপুট বায়তুল্লাহ জামে মসজিদ সংলগ্ন খোলপাটুয়া নদীতে গিয়ে দেখা যায়, নদীর মাঝামাঝি অংশে পাইপ সংযুক্ত করে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ সময় নদীতে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও বালু পরিবহনের বাল্কহেড চলাচল করতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে বৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ সীমিত থাকা সত্ত্বেও একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও স্থানীয় পর্যায়ের কিছু গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেডে করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। দিনের বেলায় কার্যক্রম অনেকটা গোপন রাখা হলেও রাত হলেই নদীতে তৎপরতা বেড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও নাব্যতা পরিবর্তনের পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকা ও উপকূল রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এ অঞ্চলে নদীভাঙন একটি বড় সমস্যা হওয়ায় যত্রতত্র বালু উত্তোলন পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
এর আগেও শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। চলতি বছরের ১৪ জুন খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে একটি বালুভর্তি বাল্কহেড জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই ব্যক্তিকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং বাল্কহেডের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করে। ওই অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সাতটি পিভিসি পাইপও ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে হলে সরকারি অনুমোদন, নির্ধারিত বালুমহাল ও পরিবেশগত বিধিবিধান অনুসরণ করা জরুরি। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নির্ধারিত বালুমহাল থেকে আইন অনুযায়ী বালু উত্তোলনের বিধান রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, রাতের আঁধারে খোলপাটুয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও রাতের টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply