আবুজার শ্যামনগর থেকে।
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তেল নিয়ে চলা অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। শক্তিশালী সেই সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ফিলিং স্টেশনে গিয়েও তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ম্যাডামের কঠোর তৎপরতায় ভেঙে পড়েছে সেই সিন্ডিকেটের শক্ত ঘাঁটি। ফলে এখন শ্যামনগরের সাধারণ মানুষের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
জানা গেছে, গতকাল রাত প্রায় ৯টার দিকে দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্তের রিপোর্টার আবুজার গাজী এবং শ্যামনগর থানার পুলিশ সদস্য এএসআই মোরসালিন একটি তেলের পাম্পে অকটেন নিতে গেলে দেখা যায় পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে কর্মচারীরা অকটেন দেওয়ার মেশিন নষ্টের অজুহাত দেখিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেয় এবং তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছিল এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। এ কারণে সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছিল না।
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পরই নড়েচড়ে বসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ইউএনও মহাদয়ের নির্দেশে শুরু হয় কঠোর নজরদারি ও অভিযান। শ্যামনগর উপজেলার চারটি তেলের ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে।
ইউএনও নিজে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন গিয়ে তেল বিক্রির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। সঠিক মাপ দেওয়া হচ্ছে কিনা, নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা—সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো পাম্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপে অসাধু সিন্ডিকেটের ভিত নড়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন পাম্পগুলোতে নিয়মিত তেল বিক্রি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ আগের মতো হয়রানির শিকার হচ্ছেন না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “ইউএনও ম্যাডামের এমন কঠোর পদক্ষেপ না থাকলে এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হতো না। এখন আমরা সহজেই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল কিনতে পারছি।”
প্রশাসনের ধারাবাহিক তদারকি অব্যাহত থাকলে শ্যামনগরে তেল নিয়ে আর কোনো ধরনের সিন্ডিকেট মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply