সংবাদ শিরোনামঃ
দেবহাটায় সরকারি কেবিএ কলেজে স্কলারশিপ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত। কালিগঞ্জ উপজেলা ড্রিংকিং ওয়াটার মালিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত উপকূলের ৩১ বাঘ বিধবা পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ করেছে ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ বুড়িগোয়ালিনী ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহায়ক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ আর মাত্র বাকি আছে ১৮ দিন , ১ সেপ্টেম্বর উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন সাতক্ষীরা কারাগার থেকে পালানো দুই বন্দি গ্রেফতার শ্যামনগর থেকে শ্যামনগরে মুন্সিগঞ্জ বাজারে অভিযান: দুই লাখ টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ শ্যামনগরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে বস্তাসহ চাল না দেওয়ার অভিযোগ শ্যামনগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে হিন্দু ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের অভিযোগ
উপকূলের ৩১ বাঘ বিধবা পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ করেছে ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ

উপকূলের ৩১ বাঘ বিধবা পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ করেছে ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ

সাইফুল ইসলাম গাবুরা শ্যামনগর থেকে।উপকূলীয় এলাকার ৩১টি বাঘ বিধবা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে গাবুরা ইউনিয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৩১টি পরিবারের প্রত্যেককে দুটি করে ছাগল বিতরণ করা হয়।

উপকারভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরার গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন এবং খুলনার কয়রা উপজেলার বাঘ বিধবা পরিবার রয়েছে। সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো এসব নারীর অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। ছাগল পালনের মাধ্যমে তাঁদের আয় ও স্বাবলম্বিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক মহাসিন উল হাকিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফরিদা খাতুন এবং ৯ নম্বর সোরা ওয়ার্ডের সদস্য জিএম মুনজুর হোসেন। অনুষ্ঠানে ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমানসহ সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে জিএম মাসুদুল আলম বলেন, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের বাঘ বিধবা পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে বসবাস করছে। তাঁদের হাতে ছাগল তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ অত্যন্ত মানবিক ও সময়োপযোগী। ছাগল পালন করে তাঁরা নিজেরাই আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহাসিন উল হাকিম বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলের মানুষের জীবন সংগ্রাম খুবই কঠিন। বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীরা শুধু স্বামী হারাননি, তাঁদের অনেকেই হারিয়েছেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের এ উদ্যোগ বাঘ বিধবা পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে নেবে বলে আশা করি।

ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান বলেন, বাঘ বিধবা পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। ছাগল বিতরণের মাধ্যমে আমরা তাঁদের হাতে এমন একটি সম্পদ তুলে দিতে চাই, যেটি থেকে ভবিষ্যতে তাঁরা আয় করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে আরও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা থাকবে।

ছাগল পেয়ে উপকারভোগী বাঘ বিধবা নারীরা ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, এই সহায়তা তাঁদের সংসারে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করবে এবং সন্তানদের লেখাপড়া ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সহায়ক হবে।

আয়োজকেরা জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *