শ্যামনগর প্রতিনিধি।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের বোশখালী কোলুনীপাড়া ইসলাম গাজীর বাড়ী হতে মিজান গাজীর বাড়ী পযন্ত ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউ,পি সদস্য মোঃ সমসের ঢালীকে ঢাল বানিয়ে ঠিকাদারের ‘পুকুরচুরি’, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে, চোখের সামনে সরকারি অর্থের নয়ছয় করে নামমাত্র রাস্তা নির্মাণের এক জঘন্য মহোৎসব চলছে শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়নে। ১ নম্বর ইটের পরিবর্তে ২ ও ৩ নং ইট , বালুর নামে ব্যবহার করা হচ্ছে কাদা-মাটি। রাস্তার পাশ থেকে রাস্তার মাটি কেটে দেওয়া হচ্ছে রাস্তায়। আর এই পুরো লুটপাট ঢাকতে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন মূল ঠিকাদার, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী ১ নং মানের ইট দিয়ে রাস্তা করার কথা থাকলেও, সরেজমিনে দেখা গেছে পুরো রাস্তা জুড়েই বিছানো হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের ২ ও ৩ নম্বর ইট। সামান্য আঘাতেই যা গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। ইটের জোড়া মজবুত করতে যেখানে পরিষ্কার বালু দেওয়ার কথা, সেখানে ঠিকাদারের লোকজন নামমাত্র মূল্যে কেনা কাঁদাযুক্ত জঞ্জাল বালু ব্যবহার করছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা ধ্বংসে বিলীন হয়ে যাবে। রাস্তার স্থায়িত্ব ধরে রাখার জন্য দুই পাশে সিডিউল মোতাবেক মাটি ভরাট করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার সেই খরচ বাঁচিয়ে পকেটস্থ করতে দুই পাশে কোনো মাটিই ভরাট না করে রাস্তা থেকে মাটি কেটে সীমিত পরিমান দিচ্ছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাজের এই চরম অনিয়ম নিয়ে যখনই কেউ প্রতিবাদ করতে যাচ্ছে, তখনই ঠিকাদার আড়ালে থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে সামনে বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ইউ,পি সদস্য তার প্রভাব খাটিয়ে এলাকাবাসীর মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করছেন এবং কাজের পুরো দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে ঠিকাদারকে ‘কিন চিট’ দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। ফলে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ হলেও ইউ,পি সদস্যর ভয়ে সরাসরি মাঠে নামতে পারছে না। এলাকার সচেতন মহলের দাবি, সরকারি বরাদ্দ মানে কোনো ব্যক্তির পকেট ভরার উৎস নয়। এভাবে জনগণের ট্যাক্সের টাকা লুটেপুটে খেতে দেওয়া হবে না। তড়িঘড়ি করে এই সরকারি টাকা হরিলুটের কাজ বন্ধ না হলে যেকোনো সময় এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলনে নামতে পারে। স্থানীয় আব্দুর রহিমের পুত্র মোঃ আলিম গাজী , মোঃ আজগার আলী সরদারের পুত্র আবু হানিফ , দাউদ শেখের পুত্র নাজমুল শেখ , মোঃ ইউনুস গাজীর স্ত্রী মোছাঃ নুরনেছা বেগম, লুৎফর বাউলিয়ার স্ত্রী সুফিয়া বেগম , আমিরুল সরদারের স্ত্রী কহিনুর বেগম প্রতিবেদককে জানান , কাউকে তোয়াক্কা না করে নিন্ম মানের ইট, বালি দিয়ে কাজ করছে। রাস্তায় যে পরিমান বালি দেওয়ার নিয়ম সেটাও দিচ্ছে না । তাছাড়া রাস্তা নির্র্মানের পরে রাস্তার পাশে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও রাস্তা থেকে মাটি কেটে দিচ্ছে। অনেক স্থানে মাটি দিচ্ছে না। যার ফলে আমরা নিজেরা মাটি দিচ্ছি। এ বিষয়ে মেসার্স তাহরিমা এন্টার প্রাইজের ঠিকাদার মহিবুল্লাহ বলেন , রাস্তার কাজটি আমাদের নিকট থেকে স্থানীয় ইউ,পি সদস্য মোঃ সমশের ঢালী গ্রহন করছেন। তিনি কাজটি সম্পন্ন করবেন। ইউ,পি সদস্য মোঃ সমশের ঢালী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। মাটি যুক্ত বালি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছি। এলজিইডির শ্যামনগর উপজেলা সহকারী ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম বলেন , বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি সরজমিনে তদন্তে যাব। কৈখালী ইউ,পি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের নিকট বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক বিষয়টি দেখবে বলে জানান।
Leave a Reply