সংবাদ শিরোনামঃ
শ্যামনগরে টিসিবির ৪৭৮ কার্ডের বিপরীতে ৬ হাজার ৭২৫ কেজি চাল বরাদ্দ, হদিস নেই ৪ হাজার ৩৩৫ কেজির  ঘূর্ণিঝড় আইলা দিবস আজ,১৭ বছর পরও ভয়াল স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে উপকূলের মানুষ বুড়িগোয়ালিনীতে লিডার্সের আয়োজনে কিশোরী মেয়েদের ডিগনিটি কিট বিতরণ গাবুরায় লিডার্সের আয়োজনে কিশোরী মেয়েদের ডিগনিটি কিট বিতরণ শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনী খোলপাটুয়া নদীর ভাঙনে হুমকিতে বুড়িগোয়ালিনী, প্লাবনের শঙ্কায় ৮-১০ গ্রাম  কলারোয়ায় সাফল্য ছড়াচ্ছেন আদর্শ কৃষক সাত্তার: ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিংয়ে কৃষিতে বিপ্লব আলিপুরে প্রতিপক্ষের মারপিটে এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত: বিজ্ঞ আদালতে মামলা  দেবহাটার পারুলিয়ায় সন্ত্রাস, পতিতাবৃত্তি, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে মানববন্ধন শ্যামনগরে অংশীজনদের প্রথম বার্ষিক সভা সুন্দরবনে পৃথক ২ টি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড
শ্যামনগরে টিসিবির ৪৭৮ কার্ডের বিপরীতে ৬ হাজার ৭২৫ কেজি চাল বরাদ্দ, হদিস নেই ৪ হাজার ৩৩৫ কেজির 

শ্যামনগরে টিসিবির ৪৭৮ কার্ডের বিপরীতে ৬ হাজার ৭২৫ কেজি চাল বরাদ্দ, হদিস নেই ৪ হাজার ৩৩৫ কেজির 

শ্যামনগর প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর বাজারের টিসিবি ডিলার বাবলুল করিমকে সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ চাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ৩০ জানুয়ারি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে ৮১১৪৫৮ নম্বর ডিও’র মাধ্যমে ডিলার বাবলুল করিমকে ৬ হাজার ৭২৫ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ তার অধীনে থাকা ৪৭৮টি কার্ডের বিপরীতে ৫ কেজি হারে প্রাপ্য চালের পরিমাণ ছিল মাত্র ২ হাজার ৩৯০ কেজি। সে হিসেবে ওই ডিওতে অতিরিক্ত দেওয়া হয় ৪ হাজার ৩৩৫ কেজি চাল।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি এই অতিরিক্ত চাল কোথায় গেল এবং কীভাবে এভাবে বরাদ্দ দেওয়া হলো। তাদের আরও প্রশ্ন-খাদ্য বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও হিসাব-নিকাশের মধ্যেও যদি অতিরিক্ত এই পরিমাণ চাল বরাদ্দ হয়ে থাকে, তাহলে কি এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা আত্মসাতের উদ্দেশ্য ছিল? বিষয়টি ঘিরে এখন জনমনে নানা সন্দেহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরবর্তী মাস অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ৮৪৪৬৪৬৪ নম্বর ডিও’র মাধ্যমে একই ডিলারকে পুনরায় ৪৭৮টি কার্ডের অনুকূলে পূণরায় ২ হাজার ৩৯০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন কৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক টিসিবি ডিলার বাবলুল করিম।

আজগার আলী, জহুর আলম ও আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ডিলার বাবলুল করিমের মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকতে পারে।

পরানপুর এলাকার মনির হোসেন নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ৪৭৮টি কার্ডের বিপরীতে এত বেশি চাল কীভাবে বরাদ্দ হলো, সেটিই বড় প্রশ্ন। বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

শফিকুল নামের আরেকজন জানান, সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল যদি এভাবে গায়েব হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ হতদরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।

এ বিষয়ে ডিলার বাবুল করিমের কাছে সংবাদকর্মী পরিচয়ে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দের ডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের চাল সরকার ডিও দিয়েছে, সরকারের লোকের দেওয়া হয়েছে। আপনি কি ফুড অফিসার? আপনার জানার দরকার কী? এসব বাদ দেন। এ কথা বলার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে নকিপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা আহমেদ জামান বলেন, আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ঘটনাটি আমার যোগদানের আগের। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে যে পরিমাণ ডিও ইস্যু করা হয়, খাদ্য গুদাম সেই অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে বাধ্য থাকে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাহিদুর রহমান বলেন, এটি অনেক আগের ঘটনা। সব অডিট শেষ হয়ে গেছে, ফাইলও এখন আমার কাছে নেই। এগুলো নিয়ে এখন ঘাঁটাঘাটি করার প্রয়োজন নেই। পরে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এদিকে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে এমন অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত চালের প্রকৃত হিসাব উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *