এম এ হালিমঃ
আজ ২৫ মে, উপকূলবাসীর বেদনা ও আতঙ্কের দিন—ভয়াল ঘূর্ণিঝড় আইলা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় আইলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। মুহূর্তেই নদীর লোনা পানিতে প্লাবিত হয় হাজার হাজার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদ। ভেঙে যায় বেড়িবাঁধ, নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় অসংখ্য মানুষের জীবিকার অবলম্বন।
ঘূর্ণিঝড় আইলার তাণ্ডবে প্রায় ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এছাড়া অসংখ্য গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণীর প্রাণহানি ঘটে। প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ঘরহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। অনেক পরিবার মাসের পর মাস রাস্তার পাশে, বাঁধের উপর ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেয়।
উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের মানুষ আজও ভুলতে পারেনি সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা। উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে এখনও আইলার স্মৃতি বহন করে চলেছে ভাঙা বেড়িবাঁধ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও দুর্যোগের চিহ্ন। অনেক স্থানে উন্নয়ন কাজ হলেও এখনও রয়েছে নানা দুর্ভোগ।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, আইলার সময় নদীর পানির স্রোত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি ভেসে যায়। লোনা পানির কারণে দীর্ঘদিন কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। অনেক মানুষ জীবিকার সন্ধানে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় আইলা দিবস উপলক্ষে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করছে। উপকূলের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশ” এর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে উপকূলীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট সংস্কার, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “আইলার ১৭ বছর পার হলেও উপকূলের মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি শেষ হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা শ্যামনগরসহ উপকূলীয় অঞ্চলে দ্রুত ও কার্যকর উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন জরুরি।”
আজকের এই দিনে আইলায় নিহতদের স্মরণ করছে উপকূলবাসী। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবেলায় আরও শক্তিশালী প্রস্তুতি ও টেকসই উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply