কয়রা প্রতিনিধিঃ
খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের আমাদী গ্রামে পূর্ব শত্রুতা জের ধরে আমাদী গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী সরদারের পুত্র মোঃ শাহাদাত সরদার (৪৮)ও তার স্ত্রী পুত্রকে বেধরক মারপিট করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে আমাদী গ্রামের মোঃ গণি সরদারের পুএ আকরাম সরদার (২৮), আলমগীর সরদারের পুএ মেহেদী সরদার (২২),মৃত ইউসুফ সরদারের পুএ আঃ গণি সরদার (৫৮), গণি সরদারের পুএ আরিফ সরদার (৩০),আলমগীর সরদার,(৪০),জিনারুল খার পুত্র ইমরান খা (২৭), জিনারুল খার মেয়ে ইরানী খা (২৪), ও তার স্ত্রী সাজু বিবি (৫০), আব্দুল গনি সরদারের দুই স্ত্রী, আলেয়া বিবি,(৫৫)ও বেলা বিবি (৪০),আলমগীর সরদারের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৩৫), আরিফ সরদারের স্ত্রী শামীমা সুলতানা (২৫),ও গণি সরদারের জামাই জিনারুল খা (৫৫) বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শাহাদাত সরদার বাদী হয়ে কয়রা বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১২/১০/২৫ তারিখে মামলা দায়ের করেছেন যার মামলা নং ৬১১/২৫। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত সোমবার (২৯/৯/২৫) তারিখ বেলা আনুমানিক একটা দিকে ভুক্ত ভোগীর বাড়ির ভিভর প্রবেশ করে ভুক্তভোগী পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে । এসময় স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে
মামলার আরজি সূএে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শাহাদাত সরদার আমাদি মৌজার এস,এ ৪১০ খতিয়ানে,এস,এ ১৩৯৩,১৩৯৫,১২৯৮, ১৩২৭ দাগের এবং বি আর এস ২৩৭ খতিয়ানে ২৯০৮,২৯১০,২৯৪১ জমির. ৯৬ একর সম্পত্তিতে প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন। পূর্ব শত্রু তার জেরে ধরে ভুক্তভোগীর লাগানো নারিকেল গাছ থেকে নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে তারা বে আইনিভাবে হাতে ধারালো দা, শাবল,রড,কোদাল, হাতুড়ি, সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে এসময় গণি সরদারের হুকুম দিয়ে বলে যে, শালা কোথায় আছে ধরে নিয়ে আয় বলার সাথে সাথে আকরাম সরদার (২৮)ও আলমগীর সরদার (৪০)ভুক্তভোগীর ঘর হতে ভুক্তভোগীকে টেনে এনে চারিদিকে ঘিরে ফেলে আকরাম সরদারের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে মাথায় বাড়ি দিতে গেলে ভুক্তভোগী মাথা সরাই নিলে উক্ত বাড়ি ভুক্তভোগীর বাম চোয়ালে লাগলে ভুক্তভোগীর বাম চোয়াল ভেঙে ৩ খন্ড হয়ে নীচের পাটি খুলে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। এসময় মেহেদী সরদারের হাতে থাকা লোহাররড দিয়ে ভুক্তভোগীর ডান চোয়ালে বাড়ি মারলে নিচের পাটির দাত ভেঙে যায় ও ঠোঁট কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। ভুক্তভোগী মাটিতে পড়ে গেলে আরিফ সরদার(৪০) হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে ভুক্তভোগীর বাম পায়ের গিরায় বাড়ি মেরে হাড় ভাংগিয়া জখম হয় । আলমগীর সরদার লোহার রড দিয়ে বাম পায়ের জয়েন্টে ও গিরায় পিটাইয়া যখম করে। ইমরান খা লোহার রড দিয়ে ভুক্তভোগীর মাজায় আঘাত করে জখম করে। ইরানী খাতুন ও জিনারুল ভুক্তভোগী কে রড শাবল হাতুড়ি লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ী,আঘাত করে নীলাফোলা রক্ত জমাট জখম করে। এবং ভুক্তভোগীর স্ত্রী ঠেকাতে গেলে মেহেদী সরদার (২২)লোহা রড দিয়ে মাজায় পেটে আঘাত করে জখম করে। আকরাম সরদার রড দিয়ে বাম পায়ের পাজরে মেরে জখম করে। এবং ভুক্তভোগীর স্ত্রীকে আব্দুল গনি সরদার শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে এবং তাকে মাটিতে ফেলে আকরাম সরদার (২৮), মেহেদী সরদার(২২)শাড়ি কাপড়, ব্লাউজ টেন ছেড়ে বিধ্বস্ত করে শীলতাহানি ঘটায় এবং ভুক্তভোগীর পুএ রাকিবুজ্জামান ঠেকাতে গেলে আলমগীর সরদার(৪০), ইমরান খা (২৭),তাকে হাতুড়ি লোহার রড দিয়ে বাম পায়ের ও মাজায় বাড়ি মেরে অজ্ঞান করে ফেলে। আসামিগণ ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও ছেলেকে অজ্ঞান করে আকরাম সরদার(২৮)ও আলমগীর সরদার (৪০)ভুক্তভোগীর ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে সব বাক্স ভেঙে আকরাম সরদার ১ লক্ষ টাকা নিয়ে নেয়। এবং মেহেদী সরদার (২২),গনি সরদার (৫৮) ভুক্তভোগীর জায়গা জমির মূল্যবান দলিল কাগজপত্র নিয়ে নেয় এবং আরিফ সরদার ভুক্তভোগীর স্ত্রীর আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ইমরান খা ভুক্তভোগীর ঘর হতে একটি বাটন আইটেল ও ১ টি টেকনো এন্ডয়েট ফোন যার মূল্য ২৫ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এবং তারা ৪৮ টি নারিকেল যার মূল্য ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ও তার স্ত্রীর হাত চিৎকারে স্থানীয়রা চলে আসলে তারা জীবন নাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থান ত্যাগ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী ও তার স্ত্রী,ছেলেকে স্থানীয়রা জায়গীর মহল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করলে তাদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের খুলাতে প্রেরণ করেন।
এবিষয়ে জানতে গণি সরদারদের কাছে ফোন করলে তাদের মোবাইল নং বন্ধ পাওয়া যাওয়ার তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply