সংবাদ শিরোনামঃ
দেবহাটায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত ধর্মপ্রাণ মানুষকে ‘ধর্মান্ধ ’ আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে দেবহাটায় মানববন্ধন সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটির শ্যামনগর উপজেলা পর্যবেক্ষক ও তথ্য সমন্বয়ক হলেন উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সদস্য মোঃ জহিরুল ইসলাম সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্ট গার্ডের গোলাগুলি; অভিযান এখনো চলমান। শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে জামায়াতের র‌্যালি ও সমাবেশ  বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ শ্যামনগর শাখার ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরাবাসীকে “ধর্মান্ধ” মন্তব্যের প্রতিবাদে ডিসির বিরুদ্ধে শ্যামনগরে ওলামাদের বিক্ষোভ সমাবেশ গাবুরায় বেড়িবাঁধের স্থিতিস্থাপকতায় মহিলাদের কণ্ঠস্বর: সম্প্রদায় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত ভারত থেকে পুশ-ইন প্রতিরোধে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাক, বাড়ছে পরিবেশগত উদ্বেগ
প্রেমিকাকে মেরে বাসার  ওয়ারড্রবের মধ্যে রাখলেন, প্রেমিক!

প্রেমিকাকে মেরে বাসার  ওয়ারড্রবের মধ্যে রাখলেন, প্রেমিক!

 রিপোর্ট
উপকূলীয় বার্তা
আপডেট বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২২

গাজীপুরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসায় বসবাসকালে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় নারী পোশাক শ্রমিককে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তার প্রেমিক। ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ ওয়ারড্রবে ভরে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনার চার দিনের মাথায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও ঘটনায় জড়িত প্রেমিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

নিহত পোশাক শ্রমিকের নাম ছামিনা খাতুন ওরফে সাবিনা (৩২)। তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার দাড়ারপাড়ার আয়নাল হকের মেয়ে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শেরপুরের নকলা থানার মাওড়া এলাকার মর্তুজা আলীর ছেলে মো. রাকিবুল হাসান সুমন (২৪), সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানার চৌবাড়ী এলাকার মো. শাহ আলম আকন্দের ছেলে শাহরিয়ার আকন্দ (১৯) ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার নব্বগ্রামের মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. ফারুক হোসেন (২৪)। তাদের গত ১৭ অক্টোবর রাতে ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া বুধবার ভোরে অপর আসামি নাইমকে (২৭) গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার ধনকুরা এলাকার মো. সুনু মিয়ার ছেলে।

বুধবার বিকেলে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ সব তথ্য জানান।

 

তিনি আরও জানান, প্রায় এক যুগ আগে নেত্রকোণার পূর্বধলা থানার দেউপুর এলাকার মোজাম্মেল হকের সঙ্গে সাবিনার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ১০ বছর সংসার করার পর প্রায় ২ বছর আগে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে। তারপর থেকে সাবিনা গাজীপুরে এসে একটি পোশাক কারখানায় কাজ নেন। এখানে সাবিনার সঙ্গে সুমনের প্রেমের সস্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা গাজীপুর মহানগরীর সাইনবোর্ড এলকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। প্রায় দুই বছর এভাবে চলছিল। পরে সাবিনা বিয়ে করার জন্য সুমনকে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু সুমন বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় কিছুদিন আগে স্থানীয় লোকজন দিয়ে সুমনকে মারধর করান সাবিনা। এরপর সুমন সাবিনাকে ছেড়ে তার আগের স্ত্রীর কাছে চলে যান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

 

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

জাতীয় আদিবাসী পরিষদ খুলনা জেলা কমিটির আয়োজনে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে এসডিএফ অফিসে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় বিরসা মুন্ডা ১৪৭ তম জন্মদিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদ খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরদারের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল মুন্ডা’র সঞ্চলনায় বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের খুলনা জেলা কমিটি সাধারণ সম্পাদক নিরাপদ মুন্ডা,কোষাধ্যক্ষ শ্যামসুন্দর সরদার,দপ্তর সম্পাদক সাধন মুন্ডা,সদস্য উজ্জল মুন্ডা,দয়াল মুন্ডা,আদিবাসী তরুন নেতা সনজিৎ মুন্ডা, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি সুব্রত মুন্ডা,সদস্য রবেন মুন্ডা প্রমূখ।

সভায় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে নিরাপদ মুন্ডা বলেন, “বিরসা মুন্ডা আমাদের সংগ্রাম ও আদর্শের মূর্তপ্রতীক। তাঁর জীবনাদর্শ চর্চা বাংলাদেশে খুব একটা চোখে পড়ে না। আমাদের মুন্ডা কমিউনিটিতে তাঁকে ঘিরে নানান আয়োজন করা দরকার, তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম তাঁকে জানতে পারবে । বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামে বিরসা মুন্ডার বীরত্ব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে আমাদের কাজ করতে হবে”

সভাপতি তপন মুন্ডা বলেন , বৃটিশদের বিরুদ্ধে বিরসা মুন্ডার গৌরবগাঁথা ইতহাস আমাদের তুলে ধরা দরকার। তাঁর এই সংগ্রাম আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার”

উল্লেখ্য, মুন্ডা বিদ্রোহের অন্যতম নেতা বিরসা মুন্ডার জন্মদিন আজ। ১৮৭৫ সালের ১৫ ই নভেম্বর বিহারের উলিহাতু গ্রামে এই নেতার জন্ম হয়। তার হাত ধরেই পরাধীন ভারতের আদিবাসী জাগরণ শুরু হয়। এই মহান নেতার জন্মদিন পালনে আজ সারা বাংলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পরাধীন ভারতে ইংরেজরা আদিবাসীদের ওপর নির্মম অত্যাচার শুরু করে। সেই অত্যাচারের বিরোধিতা করতে বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে শুরু হয় মুন্ডা বিদ্রোহ। সেই সময় বিরসা বাহিনীর আক্রমণে শতাধিক ইংরেজ সেনা মারা যায়। আক্রমণের জবাবে ইংরেজ সরকার নির্বিচারে বহু মানুষকে মেরে ফেলেন এবং শুরু হয় বিরসার খোঁজ। পরবর্তীকালে ইংরেজ সরকারের টাকার বিনিময়ে বিরসাকে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় বিচার পর্ব। অবশেষে ১৯০০ সালের ৯ জুন বিষ প্রয়োগের ফলে রক্ত বমি করে এই মহান নেতা মারা যান।

কয়রায় বৃটিশ বিরোধী মহানায়ক বিরসা মুন্ডার ১৪৭ তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 লাল মিয়া নামেই ডাকতো
রোদ্দুরে গেলে গায়ের রং লাল হয়ে যেত। তাইতো ছেলেবেলায় সবাই লাল মিয়া নামেই ডাকতো। সেই থেকে তারাও লাল কাকু বলেই চিনতেন। কুড়িগ্রাম আর মাছিমদিয়া পাশাপাশি গ্রাম। ছোটবেলায় দেখেছেন লালকাকু তাদের বাড়িতে আসতেন। বিয়ে হলে পর জানতে পান তার স্বামী হরিপদ সাহার সাথেও সুলতানের বেশ সখ্যতাছিল। এমন কথাই বলেছিলেন ২০১৭ সালে ২৬ জুন বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী এসএমসুলতানের কন্যাখ্যাত নিহারবালা সাহা। কথোপকথনে জানতে চেয়েছিলেম, সুলতান কেন নারীরূপ ধারণ করতেন, সাধারণ মানুষের সাথে মিশতে পছন্দ করতেন আর বিয়ে না করার নেপথ্যে কোন ঘটনা রয়েছে কিনা এমন কিছু বিষয়ে। কমতো নয়; বাল্যকালেতো দেখেছেন বটে তারপর ৩৫টি বছর অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে সুলতানের মৃত্যু অবধি শিল্পীকে দেখভাল করেছেন। প্রায় ৩ যুগের স্মৃতি নিয়ে আমার সাথে কথা বলার সময় ৯৩ বছরের নিহারবালাও বলেছিলেন-তিনি এখন সুলতান কাকুর অপেক্ষায়।
কলকাতা আর্ট কলেজের পাঠ শেষ না হতেই সুলতানের বিবাগীমন বেড়িয়েপড়েন, ছবি আঁকেন এদেশ থেকে ওদেশ ঘুড়ে। এরপর ১৯৫৩ সালে নিজ গায়ে ফিরেন। ওসময় নড়াইল শহরের মুচির পোলে, গোডাউনে শ্রমিকদের সাথে বেশ করে মিশতেন। কোমড় অবধি চুল আর বসন দেখে পাগল বলে ইটপাটকেলের আঘাত সইতে হয়েছে। নড়াইল জমিদারদের প্রতিষ্ঠিত সর্বমঙ্গলা কালি মন্দিরের বারান্দায় গিয়ে বসে থাকতেন অনেকটা সময়। নিহার বালা বলেন, একদিন মন্দিরের পুরোহিত টুগলা ঠাকুরকে মা কালি স্বপ্ন দেখান ‘লাল এসে তাঁর মন্দিরে যেন বাঁশি বাজায়’।  তাই করেছিলেন এসএম সুলতান। তাঁর চিড়িয়াখানায় পাঁচ হাত লম্বা বিষধর সাপ ছিল। একদিন নিহার বালা রান্না করতে গিয়ে দেখেন বিষধর সাপ ফণা তুলে আছে। কাকু এসে চলে যেতে বলতেই সাপটি ফণা গুটিয়ে চলে গেল। তাঁর সম্মোহনি শক্তি ছিল বেশ। কোন কোন দিন ঘরে কিচ্ছু নেই রান্না হবে কি করে, সাথে চিড়িয়াখানার প্রাণিদের খাবার যোগান হবে ক্যামনে? এমন সময় কাকু চিন্তা করতে মানা করতেন। সত্যিই কিভাবে যেন টাকার জোগান হয়ে যেত!
কাকু শিশুদের পাশাপাশি গাছপালা, জীবজন্তু খুউব পছন্দ করতেন। নাটক করতেন, কুচি দিয়ে শাড়ি পড়তেন। পায়ে ঘুঙুর বেঁধে বাঁশি নিয়ে বের হয়ে যেতেন। যার অর্থ এক খেয়ালী মানুষ বইতো তাঁর মনে। নারীদের বেশ সম্মান করতেন। বলতেন-‘মায়ের জাত নীচু করতে নেই’। দেখেন আমার মেয়ে পদ্ম এখন অসুস্থ। সুলতান কাকু বেঁচে থাকলে কোথায় কোথায় চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতেন।
এমন কথার ফাঁকেই জানতে চাইলুম, এসএম সুলতান বিয়ে করেননি কেন? নিহার বালার জবাব ছিল-বিয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেই কাকু বলেছিলেন, আমি বিয়ে করেছি জানেন না। এই বলে ছবি দেখায়ে দিতেন। তখন নিহার বালা পাল্টা উত্তর করতেন-এতো ভাত রেধে দিতে পারেনা।
সুলতানের সান্ত্বনার জবাব-‘বিয়ে করলে সংসারে ছবি আঁকা যায় না’। সম্ভবত কাকুর দেখানো পথ ধরেই তাঁর সাথে ছবি আঁকতে গিয়ে আমার ছোট ভাই দুলাল সাহাও অকৃতদার হয়ে ২০১৪ সালে মারা যায়। তাছাড়া কাকুর বাল্যকালে অভাবের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর এক সৎভাই ছিলেন বটে; তবে বোহেমিয়ান জীবনের সমাপ্তি টেনে সংসারী করাতে পারেনি। অক্ষেপ নিয়ে বললেন, নামেই কেবল সুলতান; পিছনে ফকির করে রাখা হয়েছে কাকুকে। যেমন ডিগ্রী না থাকায় ১৯৫৩ সালে ঢাকা থেকে অবহেলিত হয়ে শিক্ষিত সমাজ থেকে নিম্ন স্তরে চলে আসেন। যশোরের পালপাড়া বস্তি, এমএম কলেজের পুরানো হোস্টেলে থেকেছেন। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলার পর ১৯৮৩ সালে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে সাভারে পুকুরসমেত ৩ তলার বাড়ি। ঠিক ৪ দিন পর ট্রাক ডেকে মালামাল ভর্তি করে সবাইকে নিয়ে ফের নড়াইলে চলে আসা। তাঁর উক্তি ছিল-‘ইট পাথরের মধ্যে থাকবো না’। নিহার বালা প্রশ্ন তুলেছিলেন,তাহলে জল খেতে ভাঙ্গা দালানেই যাবেন? এসএম সুলতানের জবাব-‘ভাঙ্গা দালানেই কত শান্তি’।
শেখ মহম্মদ সুলতানের ছবি নিয়ে নিহার বালা বলেন, বিমূর্ত ধারার ছবি কথা বলে না। কাকু বাস্তব ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন। কৃষিনির্ভর দেশ বলে বলতেন-‘কৃষকের ফলানো ফসল খেয়ে আমরা মোটাহচ্ছি। কৃষকদের কেন দুর্বল করে দেখাবো’। তিনি কৃষক, জেলে, জেলেবউ এদের ছবি আঁকতেন। আর বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই ছবি আঁকতে হবে এই চিন্তা থেকেই শিশুদের জন্য ‘শিশু স্বর্গ’ নামক নৌকা তৈরী। এই নৌকায় শিশুদের নিয়ে কাকু সকাল থেকে বেড়িয়ে গাজীর হাট থেকে খুলনা হয়ে ফের সন্ধ্যা নাগাদ ফিরতেন। প্রকৃতি দেখে ছবি আঁকা শিখানো হতো শিশুদের। এমন মানুষ এসএম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মৃত্যুর আগে কাকু বলেছিলেন-হিন্দু মানুষের কাছে থাকি কেউ সমাধিতে আসবেনা। তবে আপনি, দুলাল, বাসনা আর পদ্মমিলে আমার মৃতদেহ গাছের নীচে মাটিচাপা দিয়ে রাখবেন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সমাধির পাশে সুলতান কাকুকে সমাহিত করা হবে। কিন্তু নিহার বালা এসএম সুলতানের মৃতদেহ নিয়ে আসেন কুড়িগ্রামে। লোক ডেকে এনে জানাযা পড়ায়ে সমাহিত করেন।
ফের স্মৃতিচারণ, রক্ত আমাশয় হলে মুচির পোলে পড়েছিলেন সুলতান কাকু। আমি কিছুটা নাসিংয়ের কাজ জানতাম। মোল্লা সাইদুর মিয়া আমায় বলেছিলেন, নিহার তুমি গিয়ে একটু দেখো। ওই থেকে মৃত্যু অবধি কাকু আমাদের পরিবারের সাথে। কোথায়ও কোন খাবার দিলে পকেট পুরে আমার মেয়েদের জন্য নিয়ে আসতেন। এমন কত স্মৃতিকথা। এ সময় নিহার বালার শীর্ণ শরীর আর নব্বই পেড়ুনো বয়সের ভাড়ে ফিকে হয়ে আসা ধূসর চোখে অপলক দৃষ্টি। গলা ধরে আসায় কিছুটা ভাড়ি স্বরে বলেন, কাকু দেবতুল্য মানুষ। কখনো অসম্মান করে কথা বলেননি। রাগ করেননি কোনদিনও। অমন মানুষের দেখা মেলাভাড়। কথোপকথনের ঠিক পাঁচবছর পর এই লেখা। জেনেছি  ৯৮ বছর বয়স নিয়ে অসুস্থ হয়ে বেঁচে আছেন নিহার বালা।

সুলতান কাকুর অপেক্ষায় নিহারবালা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *