সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা এবং সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে-বাওয়ালিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে মানববন্ধন ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এবং জেলেদের পক্ষ থেকে আকবর আলীর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত মানববন্ধন ও গণমিছিলে হাজার হাজার জেলে-বাওয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যুদের দ্রুত নির্মূল, অপহরণ ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় জেলেরা তাদের জাল পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, সুন্দরবনের দস্যু মুক্ত না হলে আর সুন্দরবনে যাব না।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত সুন্দরবনে যাতায়াত করেন। কিন্তু বনদস্যুদের অপতৎপরতার কারণে তাঁরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক সময় বনদস্যুদের হাতে অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণের দাবির শিকার হতে হচ্ছে নিরীহ বনজীবীদের।
তাঁরা আরও বলেন, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং বনজীবীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বনদস্যুদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
মানববন্ধন শেষে একটি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনদস্যুমুক্ত সুন্দরবন ও নিরাপদ জীবিকার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী জেলে-বাওয়ালিরা প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
উপকূলীয় জনপদের মানুষের দাবি, সুন্দরবন শুধু বনজ সম্পদের আধার নয়, এটি লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার অবলম্বন। তাই সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply