সংবাদ শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু বাবুর জিম্মিদশা থেকে ১০ দিন পর ফিরলেন বুড়িগোয়ালিনীর জেলে, মুক্তিপণ ৮০ হাজার টাকা স্মার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সোমবার পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা বুড়িগোয়ালিনীতে মতবিনিময় করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোল্লা হযরত আলী যমুনার চরে বিনাচাষে গাইঞ্জা ধান, কম খরচে সোনালি স্বপ্ন কৃষকের সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য, হুমকিতে পরিবেশ ও সুন্দরবন, অভিযোগ স্থানীয়দের  ৪০০ পুনর্বাসন পরিবারে নাবিকের মা‌সিক নগদ টাকা বিতরণ দেবহাটা উপজেলায় স্ববল প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও গাছের চারা বিতরণ সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে বৃহৎ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে  গাবুরায় সংস্কারবিহীন সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, খাবার পানির সংকটে কয়েক হাজার পরিবার রবিবার স্মার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যে সকল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ রোগী দেখবেন
যমুনার চরে বিনাচাষে গাইঞ্জা ধান, কম খরচে সোনালি স্বপ্ন কৃষকের

যমুনার চরে বিনাচাষে গাইঞ্জা ধান, কম খরচে সোনালি স্বপ্ন কৃষকের

বগুড়া প্রতিনিধি:
যমুনার বুকে জেগে ওঠা চর, কোথাও বালু, কোথাও পলিমাটির স্তর। সেই চরের নিচু জমিতে বিনা চাষেই গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা। জমি চাষ, সেচ ও নিড়ানির খরচ নেই বললেই চলে। তাই কম খরচে ভালো ফলনের আশায় গাইঞ্জা ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনাপাড়ের কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৫ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের নিউ সারিয়াকান্দি, পুখুরিয়া, বানিয়াজান ও ভুতবাড়ীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে চলছে গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ। নদীর পানি কমে যাওয়ায় চরের নিচু জমিতে জমে থাকা পলি ও মাটির আর্দ্রতাকে কাজে লাগিয়ে এ ধান চাষ করছেন কৃষকেরা। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলছে চারা রোপণের কাজ।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে যমুনার চরে পলিমাটি জমে। পানি কমে গেলে চরের নিচু জায়গায় ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়। এসব গর্তে জমে থাকা পানি ও পলিমাটিতে বিনা চাষেই গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ করা যায়। এতে জমি প্রস্তুত, সেচ ও নিড়ানির খরচ বেঁচে যায়। ফলে চারা কেনা ও শ্রমের খরচ ছাড়া বাড়তি ব্যয় তুলনামূলক কম হয়। তবে এবার ধানের চারার দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা বাড়তি খরচ হচ্ছে।
পুখুরিয়া চরের কৃষক আবু তালেব বলেন, প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে গাইঞ্জা ধান চাষের উপযোগী চর তেমন জেগে ওঠেনি। এ কারণে এবার ধানের চারার দাম বেশি। তবে খরচ বাড়লেও ফলন ভালো হলে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, চারা রোপণের ২০ থেকে ২৫ দিন পর জমিতে হালকা মাত্রায় ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত এ ধানে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৫ মণ ধান পাওয়া যায়। কম খরচে উৎপাদিত এ ধান পরিবারের খাদ্যচাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়েও ভূমিকা রাখে।
যমুনাপাড়ের কৃষক চান মিয়া বলেন, ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি থেকে আশ্বিন মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে এবার আশ্বিন মাসজুড়েই চারা রোপণের কাজ চলছে। ফলন ভালো হলে পরিবারের সারা বছরের চালের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ধান বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
নিউ সারিয়াকান্দি চরের কৃষক কোরবান আলী বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকৃত কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হলে যমুনাপাড়ের কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর উপজেলার সহড়াবাড়ি, বানিয়াজান, পুখুরিয়া, নিউ সারিয়াকান্দি, ভাণ্ডারবাড়ী ও ভুতবাড়ীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে গাইঞ্জা ধানের চাষ হচ্ছে। আগে এসব বালুময় জমির অনেক অংশ পতিত থাকত। এখন সেখানে গাইঞ্জা ধান চাষ করে কৃষকেরা জমির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পারছেন। এতে তাঁদের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় খাদ্যচাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ চাষাবাদ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *