২২ মার্চ সারা বিশ্বে বিশ্ব পানি দিবস পালিত হয়, তারই ধারাবাহিকতায় সামাজিক ও মানবিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশ পালন করেছে বিশ্ব পানি দিবস- ২০২৬। এ বছর ইউনেস্কো বিশ্ব পানি দিবসের শ্লোগান নির্ধারণ করেছে ”পানি প্রবাহ যেখানে, সাম্যের হাসি সেখানে, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব পানি দিবসের প্রতিপাধ্যের প্রতি পূর্ণ সমার্থন জানিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন “ ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশ এর আয়োজনে, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সহযোগিতায়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০ টায়, শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী, নীলডুমুর আলাউদ্দিন মার্কেটে, এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত আলোচনা সভায় ইয়ুথ প্ল্যান বাংলাদেশ এর সভাপতি আব্দুল হালিমের সভাপত্তিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এম, এম রবিউল ইসলাম, ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক মনিরুল ইসলাম বাবু, গবেষক ও সাংবাদিক পিযুষ বাউলীয়া, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আব্দুল্লাহ আল- মামুন, জিএম দেদারুল আলম, জি এম রবিউল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমান উল্লাহ, ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশের সহ সভাপতি সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত , বুড়িগোয়ালিনী নৌ থানার সদস্য মহাসিন আলম, হোসেন আলী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারষিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, সিসিডিবি প্রতিনিধি অমিতাভ হালদার, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম, লির্ডাস এর প্রতিনিধি শওকত হোসেন, প্রেরনা নারী সংগঠনের প্রতিনিধি ভারতী মন্ডল, সাংবাদিক ওসমান গনি সোহাগ প্রমুখ।
উপস্থিত অতিথিগণ বলেন,
প্রত্যেক প্রাণীকে পানি ছাড়া প্রাণের বেঁচে থাকা বা টিকে থাকা অসম্ভব।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পানি সংকট বর্তমানে একটি গভীর ও বহুমাত্রিক জলবায়ুজনিত সংকট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা মানবজীবন, প্রাণবৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় ১৯টি জেলায় বসবাসকারী প্রায় ৩.৯ কোটি মানুষ নিরাপদ পানির সংকটে ভুগছে। গবেষণা বলছে, এই অঞ্চলে পানির লবণাক্ততা বিপজ্জনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমাকে ছাড়িয়ে গেছে। পানি সংকট কেবল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি উপকূলীয় অঞ্চলের সমগ্র জীববৈচিত্র্য ও ইকোসিস্টেমকে বিপন্ন করছে। লবণাক্ততার কারণে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে, কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আবাদযোগ্য জমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ছে। মিঠা পানির মাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, পুকুর ও জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং গবাদিপশু লবণাক্ত পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ম্যানগ্রোভ বন ও এর জীববৈচিত্র্যের উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আলোচনা শেষে উপস্থিত সলকে নিয়ে র্যালীর মধ্যোই দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।
Leave a Reply