শ্যামনগর প্রতিনিধি।
শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নে ধূমঘাট কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখণ কেন্দ্রে জলবায়ু সংকট, এগ্রোইকোলজি ও উপকূলের স্থানীয় অভিযোজন কৌশল বিষয়ক দুই দিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বারসিক কর্মকর্তা বরষা গাইনের সঞ্চালনায় ধূমঘাট কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখণ কেন্দ্রের প্রতিনিধি অল্পনা রানী মিস্ত্রির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি এবং আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা রাজীব বাছাড়। অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, মথুরাপুর কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখণ কেন্দ্রের সরমা রানী। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালী কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা দল ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাটের হাঁসারচক ও তেরকাটিরচক কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা দলের ২৫ জন কৃষক, কৃষানী, যুব উদ্যোক্তারা এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষনের শুরুতে অংশগ্রহণকারীরা ধূমঘাট কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্র পরিদর্শনের মাধ্যমে অভিযোজন চর্চা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এসময়ে অল্পনা রানী মিস্ত্রি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল দূর্যোগ প্রবণ ও জলবায়ু সংকটাপন্ন এলাকা। লবনাক্ততা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, পানির সংকট ইত্যাদি মোকাবিলা করে সারা বছর ফসল চাষ করে কিভাবে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে আর্থিক সচ্ছলতা আসে আমাদের সেই উপায়ে পরিকল্পিতভাবে কৃষি কাজ করতে হবে।
কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা রাজীব বাছাড় বস্তায় আদা, রসুন, পেয়াজসহ অন্যান্য সবজি চাষে মাটি প্রস্তুত প্রণালী, বেড পদ্ধতিতে সবজি চাষ এবং জৈব উপায়ে বীজ শোধন প্রক্রিয়া, সমন্বিত ফসল চাষ ও মিশ্র চাষাবাদ পদ্ধতি তুলে ধরেন ।
স্বল্প পানিতে ফসল চাষে উপকূলীয় অঞ্চলের টাওয়ার, জলপট্টি ও প্রাকৃতিক মালচিং, হলুদ কার্ড, নীল কার্ড, ফেরোমন টোপ ব্যবহার করে ফসল চাষের হাতে কলমে শেখান মথুরাপুর কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক সরমা রানী।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে তারা হাতে কলমে উপকূলের জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করে নিজের জ্ঞান ব্যবহার করে কৃষি কাজে সক্ষমতা অর্জনের ১২ টি কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত হাতে কলমে প্রশিক্ষণ পান।
Leave a Reply