এম এ হালিম,শ্যামনগর থেকে : জীববৈচিত্র্য, মাছ, কাঁকড়া ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন সুরক্ষায় গত ১ জুন থেকে টানা তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ।
নিষেধাজ্ঞার ১ মাস ১৯ দিন পার হলেও উপকূলের হাজারো জেলে, বাওয়ালী ও বনজীবী পরিবার চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
সুন্দরবন নির্ভর পরিবারগুলোর প্রধান আয়ের উৎস মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা ও বনজ সম্পদ আহরণ।সুন্দরবন বন্ধ থাকায় অধিকাংশ জেলে ও বাওয়ালী এখন কর্মহীন। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় অনেকেই ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ একবেলা খেয়ে বা না খেয়ে দিন পার করছেন।
বুড়িগোয়ালিনী এলাকার এক জেলে বলেন, “সুন্দরবনই আমাদের জীবন-জীবিকা। বন বন্ধ হওয়ার পর থেকে কোনো আয় নেই। ঘরে চাল নেই, বাজারে বাকিও আর পাওয়া যাচ্ছে না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
আরেক বাওয়ালী বলেন, “তিন মাস বন বন্ধ থাকাটা বন ও প্রাণিকুলের জন্য প্রয়োজন, সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু এই সময় আমাদের পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা কে করবে? সরকার যদি খাদ্য সহায়তা বা আর্থিক অনুদান দিত, তাহলে কিছুটা স্বস্তি পেতাম।”

স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, প্রতিবছর বন বন্ধের সময় সমুদ্রে মাছ ধরা জেলেদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা থাকলেও সুন্দরবন নির্ভর অধিকাংশ জেলে ও বাওয়ালীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। ফলে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে তাদের পরিবারকে চরম অর্থকষ্টের মধ্যে থাকতে হয়।
এলাকার সচেতন মহল বলছেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে বননির্ভর মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, খাদ্য সহায়তা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন বন সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে হাজারো বনজীবী পরিবারের জীবন-জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে।
এ বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাছ, কাঁকড়া ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতেই প্রতিবছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
Leave a Reply