কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলার ভাগবা গ্রামে চিকিৎসাসেবা দিয়ে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন পল্লী চিকিৎসক আজমুল হোসেন সাদিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গ্রামের অসহায়, দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পল্লী চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।
২০১৯ সালে খুলনা ফার্স্ট এইড অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট থেকে D.M.F কোর্স সম্পন্ন করে তিনি পল্লী চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করেন। এরপর থেকেই ভাগবাসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন আস্থার এক নাম।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিন হোক বা রাত হোক—জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, কেটে যাওয়া বা প্রাথমিক চিকিৎসাসহ যেকোনো জরুরি সমস্যায় রোগীরা তার কাছ থেকে দ্রুত সেবা পান। প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্র বা হাসপাতাল দূরে হওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশের ভরসার জায়গা এখন সাদিকের চেম্বার।
ভাগবা গ্রামের এক স্থানীয় বাসিন্দা শফি শেখ,এবং রশিদ শেখ বলেন, “সাদিক ভাই শুধু চিকিৎসাই দেন না, মানুষকে সাহস দেন। পকেটে টাকা না থাকলেও তিনি কখনো কাউকে ফিরিয়ে দেন না। রাতে হঠাৎ কোনো বাচ্চার জ্বর উঠলেও ডাকলেই তাকে পাশে পাওয়া যায়। আমাদের গ্রামে তার মতো মানবিক মানুষ পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।”
স্থানীয় মানুষের আস্থার এই কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া নিয়ে কথা হয় পল্লী চিকিৎসক আজমুল হোসেন সাদিক-এর সঙ্গে। তিনি বলেন,
“টাকার জন্য কখনো মানুষের চিকিৎসা আটকে থাকুক, এটা আমি কখনো চাই না। চিকিৎসাসেবা ব্যবসা নয়, এটি মানুষের সেবা করার একটি বড় মাধ্যম। গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র মানুষগুলো যখন সুস্থ হয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যান, সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এলাকার মানুষের ভালোবাসাই আমাকে প্রতিদিন আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগায়।”
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন,
“আজমুল হোসেন সাদিক আমাদের এলাকার গর্ব। তিনি একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও মানবিক পল্লী চিকিৎসক। গ্রামের মানুষ তার কাছ থেকে সবসময় ভালো সেবা পাচ্ছে। তার এই মানবসেবা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
Leave a Reply