এম এ হালিম।
কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় মহান সাধক, বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে বার্ষিক লালন উৎসব। তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো বাউল, ফকির, সাধক ও দর্শনার্থীরা সমবেত হয়েছেন লালন আখড়াবাড়িতে।
প্রতি বছরের মতো এবারও লালন একাডেমি ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে—লালনের জীবন ও দর্শনভিত্তিক আলোচনা সভা, বাউল গান, লালন তত্ত্ব নিয়ে সেমিনার, ধ্যন-জপ, এবং বাউল মেলা। আখড়াবাড়ির চারপাশে বাউলদের তাবু, একতারার সুর ও দোলের ছন্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
লালন অনুসারীরা জানান, লালন শুধু একজন গানের মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবধর্মের একজন দার্শনিক। তাঁর গান ও দর্শনে জাত, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠীভেদহীন মানবতার বাণী উচ্চারিত হয়েছে।
লালন একাডেমির সভাপতি জানান, এ বছর উৎসবে প্রায় কয়েক হাজার বাউল অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকেও অনেকে এসেছেন।
অনুষ্ঠানের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণানুষ্ঠান, প্রার্থনা ও সমাপনী বাউল গান।
চিরসত্য ও মানবধর্মের বার্তাবাহক ফকির লালন সাঁইয়ের এই তিরোধান উৎসব আজও বাঙালির মননে জাগিয়ে রাখে ভালোবাসা, সহনশীলতা ও মানবতার গান।
Leave a Reply