বিশেষ প্রতিনিধিঃ
তোর সন্তানের নাঁড়ি আজ বাস্ট করে ফেলবো বলেই বেধড়ক মারপিট। প্রথমে ওরা আমার চায়ের দোকানে গালিগালাজ করতে শুরু করে, আমি মাত্র ইফতারী করে এসেছি। শান্ত ১০/১৫ জন আমার উপর লেলিয়ে দিলো। ওরা আমাকে লাঠি, হকস্টিক, জিআই পাইপ, রড, হাত, পা দিয়ে বিবর্ণনীয় মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে একটা কালো প্রাইভেট কারে এসে শান্তর ছেলে সাকিব আমার গলা চেপে ধরে, শান্ত ও তার চ্যালারা আমাকে টেনে হেঁচড়ে ঐ গাড়িতে তোলে। অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা অচেনা জায়গায় নিয়ে আমাকে আবার মারপিট করতে থাকে তারা।
শান্ত আমাকে বলে আজ তোর সন্তানের নাঁড়ি বাস্ট করে ফেলবো। একথা বলেই জিআই পাইপ দিয়ে আমার গোপনাঙ্গে আঘাত করতে থাকেন। আমি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলাম, আমার পেনিস দিয়ে তখন রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো। এমন অমানবিক কাজের বিররণ দেন ভুক্তভোগী পারভেজ মিয়া (২৬)। ঘটনাটি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে কলেজ পড়ুয়া পারভেজ মিয়ার। ফেঁসে যান একটি মিথ্যা মামলার স্বাক্ষী হয়ে। তবে সে মামলার স্বাক্ষী হলেও নিজেই জানতেন না কেন তাকে স্বাক্ষী বানানো হল, কি ঘটনা নিয়ে মামলা কিছুই জানতেন না।
একই ইউনিয়নের ভাড়াশিমলা গ্রামের তাজিবর শিকারির ছেলে আতিকুর রহমান অরফে শান্ত ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে মিঠু নামে একজনের নামে মামলা করলে স্বাক্ষী হিসাবে নাম দেন পারভেজ মিয়াকে। সে মামলায় পুলিশ সাতক্ষীরা থেকে তদন্তে আসলে স্বাক্ষী পারভেজ মিয়া এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে স্বীকারোক্তি দেন। কেন তাকে স্বাক্ষী বানানো হলো সেটাও সে জানেন না বলে জানান থানা পুলিশকে। এটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় পারভেজ মিয়ার।
এ ঘটনার পরদিন থেকে আতিকুর রহমান শান্তর কাছ থেকে হুমকি-ধামকি, গালিগালাজসহ ভয়-ভীতি পেতে থাকেন পারভেজ মিয়া। আর এ ঘটনার কিছুদিন পরেই আতিকুর রহমান শান্ত ভাড়া করা গুন্ডা বাহিনী, নিজে ও তার ছেলে কর্তৃক অমানবিক নির্যাতন করেন পারভেজ মিয়াকে। ভুক্তভোগী পারভেজ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ঐ দিন মারপিটের সময় আমার গলায় থাকা পঁচাত্তর হাজার টাকার স্বর্ণের চেইন, দোকানে থাকা ছয় হাজার তিনশত পঞ্চাশ টাকা নিয়ে নেন ও দোকানের প্রায় বিশ হাজার টাকার মালামাল ভাংচুর-তছনছ করেন শন্ত বাহিনী। দূরে নিয়ে মারপিট করার পর আমি যখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলি তখন ওরা আমার দোকানের সামনে ফেলে রেখে যায়।
পারভেজ মিয়ার চাচা বাবু খাঁ বলেন, ঐদিন সন্ধ্যার পর তাজিবরের ছেলে শান্ত ও তার চ্যালারা এসে হঠাৎ পারভেজকে মারপিট করতে থাকে। আমি সেখানে গেলে ওরা আমাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে ফেলে পারভেজকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে অজ্ঞান অবস্থায় দোকানের সামনে পারভেজকে পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। প্রতিবেশি ইব্রাহীম হোসেন বলেন, নির্যাতনের স্বীকার অর্ধ মৃত্যুপ্রায় পারভেজকে দোকানের সামনে পড়ে থাকতে দেখে অচেনা পথযাত্রীর বাইকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। টানা সাত দিন চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থতা বোধ করলে পারভেজকে আমরা বাড়িতে নিয়ে আসি। এ ঘটনার পরে ভুক্তভোগী পারভেজ মিয়া কালিগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
পরে উভয়ের উপস্থিতিতে পুলিশি শালিশে মিট-মিমাংসার কথা হয় ও দোকানে ক্ষয়ক্ষতি পূরণে আতিকুর রহমান শান্তকে ক্ষতিপূরণের জন্য বলা হয়। পরদিন থেকে শান্ত আরো অশান্ত হয়ে গালিগালাজ ও জীবন নাশের হুমকি দিতে থাকেন। পারভেজের পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে এ ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ এর ৪/৫ মামলা নং ২২/২৫ ধারায় আতিকুর রহমান শান্ত, ছেলে সাকিব ও একই গ্রামের বাবুর আলীর ছেলে সুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পরে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত তিনজন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ১৪ নভেম্বর বিকালে নিজ গ্রাম থেকে তৃতীয় আসামি সুজন ও ২০ নভেম্বর দিনেরবেলা প্রথম ও দ্বিতীয় আসামি আতিকুর রহমান শান্ত ও সকিবকে গ্রেফতার করেন পুলিশ। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন আসামীরা ওয়ারেন্টভুক্ত ছিলো।
Leave a Reply