সংবাদ শিরোনামঃ
শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড, বাল্কহেড জব্দ সাংবাদিক মিজানকে হত্যার হুমকি আল আজিমের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে শ্যামনগরে মানববন্ধন সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয় বাজারের কীটনাশক বিক্রেতাদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে বিয়ে, এরপর ৯ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে লাপাত্তা স্ত্রী; যৌতুক মামলার হুমকির অভিযোগ গাবুরায় বেড়িবাঁধের স্থিতিস্থাপকতায় মহিলাদের কণ্ঠস্বর: সম্প্রদায় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত ভারত থেকে পুশ-ইন প্রতিরোধে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাক, বাড়ছে পরিবেশগত উদ্বেগ গাবুরাতে দুর্যোগে আগাম সতর্কতা ও উদ্ধার অভিযানের জন্য সরঞ্জামাদি বিতরণ করেছে ফেইথ ইন এ্যাকশন সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে বনজীবীদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য আটকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড
শ্যামনগরে নিরাপত্তাহীনতায় দু’ই হিন্দু পরিবার, থানায় লিখিত অভিযোগ

শ্যামনগরে নিরাপত্তাহীনতায় দু’ই হিন্দু পরিবার, থানায় লিখিত অভিযোগ

শ্যামনগর প্রতিনিধি।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আড়পাংগাশিয়া গ্রামে বখাটের অত্যাচারে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দুই হিন্দু পরিবার। আইনি প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন পরিবার দু’টি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বধানখালি গ্রামের শহিদুল ইসলাম সফির ছেলে মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি ও প্রাণনাশের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারি তপোবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আড়পাংগাশিয়া গ্রামের দিনদয়ালের ছেলে সুকুমার মন্ডল লিখিত অভিযোগে বলেন, তার মেয়ে মোহনা রানী মন্ডল (১৮)  মুন্সিগঞ্জ বাজারে পরিচালিত মাসুম বিল্লাহর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দোকানে প্রশিক্ষণ নিতে যেত। সেই সুবাদে অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ, পিতা- শহিদুল ইসলাম, সাং মুন্সিগঞ্জ, শ্যামনগর, তার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মত্যাগ করিয়ে বিয়ে করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মোহনা রানীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে কিছুদিন পর পুনরায় যোগাযোগ করে তাকে নিয়ে যান মাসুম বিল্লাহ। এরপর থেকে মেয়ের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেন সুকুমার মন্ডল।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে অভিযুক্ত তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে অপর অভিযোগকারি, একই এলাকার অরবিন্দ বৈদ্যর ছেলে পরিতোষ কুমার বৈদ্য অভিযোগ করেন,মিথ্যে প্ররোচনায় ধর্মান্তরিত করা মোহনা রানী তার মামাতো বোন। সেই কারনে পরিবারের মান সম্মান রক্ষার্থে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনের শরণাপন্ন হতে আমি পরিবারটিকে সহযোগিতা করি। তার প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মকিন্দ পাইকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অঙ্গীকারনামা ও তালাকনামাও সম্পন্ন হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও মোহনা রানীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মাসুম বিল্লাহ।

পরিতোষ কুমার বৈদ্য আরও অভিযোগ করেন, আমার এমন দৌড়াদৌড়ি দেখে ক্ষিপ্ত হয় বখাটে মাসুম। বিভিন্ন সময়ে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। আমার অফিস সংলগ্ন মাসুমের বাড়ি হওয়ায় অফিসে যাওয়া আসার পথে প্রতিদিন আমাকে হুমকি ধামকিসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ বাজার থেকে অফিসে যাওয়ার পথে মাসুম বিল্লাহ আমার জামার কলার ধরে টেনে দোকানের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এবং আমার কাছে ৪০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন পাবে এই মর্মে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবী করে।

স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে অভিযুক্ত সেখান থেকে সরে যান। পরে বিভিন্ন সময় পথেঘাটে পেলে সবকিছু কেড়ে নেওয়া  মিথ্যা মামলা দেওয়া ও খুনজখম করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিতোষ বৈদ্য।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সুন্দরবন প্রেসক্লাব-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনেও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী দুই পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শ্যামনগর হিন্দু পরিষদের আহ্বায়ক অনাথ মন্ডল ও যুগ্ন আহবায়ক সুজন কুমার দাস বলেন,হিন্দু পরিবার দুটির উপর হুমকি ধামকি আসলে দুঃখজনক। যেহেতু বিষয়টি আইনি পর্যায়ে আছে সেহেতু আমরা আইনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চাই। একই সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে পরিবার দুটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দাবি করি।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, ঘটনা দুইটি নিয়ে আলাদা আলাদা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *