এম এ হালিম ঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দুর্গাবাটি মন্দির সংলগ্ন ঝাপারচর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় একটি বাল্কহেড জব্দ করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে হাবিলদার জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিজিবি টহল দল স্পিডবোটযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনরত একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত বাল্কহেডে আনুমানিক ৫ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ হাজার ২০০ টাকা। পরে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাল্কহেডটি ব্যাটালিয়ন সদর পল্টন ঘাট সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে আসা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেন এবং বুড়িগোয়ালিনী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তদন্ত শেষে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী মামলা নং-৩২/২৬ দায়ের করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্ত বাল্কহেডের চালক মোঃ নজরুল ইসলাম (পিতা: মৃত আফসার আলী, গ্রাম: দরগাহপুর, থানা: আশাশুনি, জেলা: সাতক্ষীরা)-কে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
এছাড়া সহকারী মোঃ আক্তারুল জামান (৩০) (পিতা: জিল্লুর গাজী, গ্রাম: রাড়ুলী, থানা: পাইকগাছা, জেলা: খুলনা)-কে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সাতটি পিভিসি পাইপ অপসারণ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
কার্যক্রম শেষে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে দণ্ডপ্রাপ্তদের নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নৌ-পুলিশের কর্মকর্তারা শ্যামনগর থানার উদ্দেশ্যে রওনা হন। জব্দকৃত বাল্কহেডটি বর্তমানে বিজিবির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে।
স্থানীয়রা সুন্দরবন ও উপকূলীয় নদী-খালে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply