সংবাদ শিরোনামঃ
সুন্দরবনের ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধে শ্যামনগরে ‘লংমার্চ ফর ফরেস্ট’ ও স্মারকলিপি প্রদান দেবহাটা জমির সীমনা নিয়ে বিরোধে বিভিন্ন ফলের গাছ কর্তন হুমকীসহ,পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ  সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত শওকত সরদার বনদস্যু নন: মিথ্যা প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে বারসিক’র উদ্যোগে স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত   নীলডুমুর বাজারের হারুনের হার্ডওয়্যার দোকানে বিশাল অজগর সাপ, বনবিভাগের উদ্ধার অভিযান নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগে বুড়িগোয়ালিনী গাজিবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম অপসারিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শ্যামনগরে ‘ইয়ুথ ফর সুন্দরবন’-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কুলিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত, থানায় অভিযোগ  মুরুব্বীদের দোয়া মাথায় নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিঃ এস,এম জাহিদুর রহমান শোভন পাইকগাছা উপজেলা সূশীল সমাজ সংগঠন(সিএসও)র অর্ধ-বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত
সাতক্ষীরায় বিশালাকৃতির মরা গাছ যেন মরণফাঁদ: আশ্রয়কেন্দ্রে ৪টি পরিবার চরম মৃত্যুঝুঁকিতে

সাতক্ষীরায় বিশালাকৃতির মরা গাছ যেন মরণফাঁদ: আশ্রয়কেন্দ্রে ৪টি পরিবার চরম মৃত্যুঝুঁকিতে

আব্দুল্লাহ আল মামুনঃ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গয়েশপুর এলাকায় সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত চারটি ভূমিহীন পরিবারের ওপর এক মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিশালাকৃতির শুকনো শিমুল (পাপড়া) গাছ। দীর্ঘদিনের পুরনো এই সরকারি গাছটি বর্তমানে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে ঘরগুলোর ওপর ভেঙে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এমন চরম মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে শিশু সন্তানদের নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন আশ্রয়হীন এই পরিবারগুলো।

সাতক্ষীরা সদরের গয়েশপুরের ‘পাপড়া তলা’ এলাকায় ভূমিহীন আ: আজিজ শাহ-এর ঘরের ওপর গাছটি অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে হেলে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশাল আকারের এই গাছটি অনেক আগে থেকেই মৃতপ্রায় ছিল, যা এখন পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে। এর ভারী ডালপালা সরাসরি বসতঘরের টিনের চালের ওপর ঝুলে আছে। একটু জোরে বাতাস হলেই গাছটি দুলতে থাকে, যা দেখে স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিহীন এই পরিবারগুলোর নিজস্ব কোনো জমি বা বিকল্প থাকার জায়গা না থাকায় তারা এক প্রকার বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই মরণফাঁদের নিচে বসবাস করছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, তারা বিপদ আঁচ করতে পেরে কয়েক মাস আগেই গাছটি অপসারণের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। সরকারি গাছ হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি কাটা সম্ভব নয়, তাই তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজেছিলেন। তবে আবেদনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছটি কাটার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের আসন্ন ঝোড়ো হাওয়া ও কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কায় তাদের আতঙ্ক কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ভূমিহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়া হয়েছে তাদের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু একটি মরা গাছের কারণে এখন সেই নিরাপদ আশ্রয়ই শ্মশানে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সামান্য কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে এই জরাজীর্ণ গাছটি ভেঙে পড়বে এবং এতে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

তাই কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটার আগেই অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে এই ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি গাছটি কেটে ফেলার জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আশু ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *