সংবাদ শিরোনামঃ
নওয়াপাড়ায় শিশুশ্রম তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা সভা সুন্দরবনের হরিণ ধরার ৪২ টি মালা ফাঁদ উদ্ধার করেছে মুন্সিগঞ্জ বনটহল ফাঁড়ির সদস্যরা নওয়াপাড়ায় শিশুশ্রম তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা সভা শ্যামনগরে লিডার্সের সহযোগিতায় সমাজসেবা অফিসের গণশুনানি অনুষ্ঠিত অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড; সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড কে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড পারুলিয়ায় শিশুশ্রম তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা সভা মিসেস নুরজাহান পারভীন ঝর্ণার পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা বাসী ও জাতীয়তাবাদী দলের জন্য শুভেচ্ছা বার্তা শ্যামনগরের ০৮ নং ইশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদে গণশুনানী অনুষ্ঠিত সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ৪১টি ফাঁদ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ শ্যামনগরে সুপেয় পানির সংকট তুলে ধরতে দৌড়ে অংশ নিল ২ শতাধিক মানুষ
অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনে সালমার জীবন কাহিনী

অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনে সালমার জীবন কাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক।
সাহসী মনোবল আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি নারীকে উন্নয়নের শিখরে পৌছে দিতে পারে। তেমনই এক কঠোর পরিশ্রমী নারী সালমা আক্তার। নিজের ইচ্ছাশক্তি কে কাজে লাগিয়ে কঠোর পরিশ্রম আর নিজের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করে তাক লাগিয়েছেন পুরো এলাকা জুড়ে। সাতক্ষীরার উপকুলীয় শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের হরিশখালী গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী সালমা আক্তার। স্বচ্ছলতার লক্ষ্যে সালমা খাতুন স্বামীর সাথে মিলে মিশে সংগ্রাম করে চলেছে। নিজের বাড়ীতে সিট কাপড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসার সাথে সেলাই মেশিনে কাজ করে আয়ের মুখ দেখেছে সে।
“সেলাই মেশিনে কাজ ও সিট কাপড়ের ব্যাবসা করে আগের থেকে ভালো আছি। সেলাই মেশিনে কাজ করি কাজের সাথে সিট কাপড় কম বেশি বিক্রয় করি। মাসে দুই তিন বার নঁওয়াবেকি ও নাজিমগঞ্জ বাজার থেকে সিট কাপড় আনি বিক্রয় করি এমন টাই বলছিলেন সালমা আক্তার।” সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার ডুমুরিয়া গ্রামের সালমা খাতুন (২৯)। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ের পরে এসএসসি পাশ করে আর পড়া হয়নি কিন্তু সপ্ন ছিলো অনেক পড়াশুনা করার। সালমা খাতুনের পারিবারে সদস্য পাঁচ জন। পারিবারিক অচ্ছলতার কারনে স্বামী রবিউল ইসলাম (৩৩) এর পড়াশুনা করা হয়নি। তাদের বড় ছেলে সাকিবুর ইসলাম (১০)  ক্লাস ফাইভে পড়ে। ছোট ছেলে সাহরিয়ার সাইন (১১ মাস)। শাশুড়ী জেসমিন নেছা (৬০) স্বামী স্ত্রী আর দুই সন্তান সহ মোট ৫ সদস্যের সংসার তার। সালমা আক্তার শ^শুরের ভিটায় বসবাস করেন।
২০২১ সালের অক্টোবর মাসে নেটর্জ পাটনারশীপ ফর ডিভেলপমেন্ট জাস্টির সহযোগিতায় বারসিক এর বাস্তবায়নে পরিবেশ প্রকল্প শুরু হলে ডুমুরিয়া গ্রামের নীলকোমল সিএসও দলে যুক্ত হয় সালমা খাতুন। পরিবার উন্নয়ন পরিকল্পনায় মূল সম্পদ হিসিবে নৌকা নিলে পরিবারের ইনকাম বাড়বে উল্লেখ করেন তিনি। বারসিক পরিবেশ প্রকল্প থেকে সহায়তা হিসাবে একটি নৌকা দুইটি গাছের চারা সাত প্রকারের  সবজী বীজ ও চারটি হাঁস সহযোগিতা পান সে। নৌকাটি সহযোগিতা পাওয়ার পরে তাদের দৈনিক আয় বেড়ে যায়। সুন্দরবনের নদীতে মাছ কাঁকড়া আহরণ করে ভালোভাবে সংসার চলছে একই সাথে সঞ্চয় ও বাড়তে থাকে। নিজের পারিবারিক খরচ এবং ছেলের লেখা পড়ার খরচ মিটিয়ে সঞ্চয় বাড়াতে থাকেন সালমা। তাদের সঞ্চয় জমার আট হাজার টাকা দিয়ে সে নাজিমগঞ্জ বাজার থেকে সীটকাপড় ক্রয় করে বাড়ীতে ব্যবসা শুরু করে। মাঝে মাঝে সুন্দরবনের পাশ বন্ধ এর কারণে স্বামীর আয় বন্ধ থাকলেও সালমা বেগমের আয় বাড়তে থাকে। প্রতিদিন সীটকাপড় ও সেলাই মেশিনের কাজ করে বেশ আয় হয় তার। সালমা আক্তারের কাছে ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্বামীর পক্ষে একা ইনকাম করে পাঁচ জনের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যায়। নৌকার ইনকাম থেকে একটু একটু করে টাকা জমিয়ে এবং দোকান থেকে কিছু বাকি নিয়ে সিট কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি। সেলাই মেশিনের কাজ ও সিট কাপড় বিক্রয় করে প্রতি দিন ৩০০- ৪০০ টাকা ইনকাম করতে পারি। এভাবেই তার পরিবারে আয় বৃদ্ধি পেয়ে স্বচ্ছলতা ফিরেছে বলে জানাবেন সালমা রবিউল দম্পতি।”
এলাকার অধিকাংশ নারী ও শিশুদের পোশাক তৈরির জন্য প্রচুর পরিমানে অর্ডার আসে প্রতিদিন। সালমা’র কাজের বিস্তৃতির আরো একটি মূল কারণ হল তার কাছে নানা ধরনের সীটকাপড় রয়েছে। স্থানীয় বাজারের দামেই সীট কাপড় পাওয়া যায় সেজন্য লোকজন তার কাছ থেকে সীট কাপড় ক্রয় করেন। তাছাড়া তার হাতের কাজের কোয়ালিটি খুব ভালো এবং নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরী করতে পারায় সর্বদা কাজের ভিড় লেগে থাকে। এছাড়াও নানা ধরনের হাতের কাজ বৈচিত্র্যময় শোপিচ তৈরী করেও বেশ সফলতা লাভ করেছেন। তিনি নিজের হাতে কাপড়, কাগজ, ও অন্যান্য কাচামাল দিয়ে নকশি ও বাহারী খেলনা, জগ, মগ, ফুলদানী, ট্রে সহ নানাবিধ শোপিচ তৈরী ও বিক্রয় করেন। একই সাথে বাড়ীতে ইনকিউবিটর মেশিনের মাধ্যমে মুরগীর বাচ্চা ফোটানোর কাজ করেন।
আর্থিকভাবে সাবলম্বী সালমা আক্তার এলাকার একজন উদ্যোগী নারী হিসেবে সুপরিচিত। তার আর্থিক সফলতার গল্প নারী সমাজকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করবে। যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *