সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ভামিয়া এলাকায় ওয়াপদার বাঁধের ওপর স্থাপিত পাঁচ ফোকড় বিশিষ্ট স্লুইস গেটটি মেরামত ও অপসারণ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, মাত্র ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করলেই সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত গেটটি অপসারণ করে বাঁধ মজবুত করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ থেকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় করার পরও কার্যকর কোনো ফল পাওয়া যায়নি। উল্টো সেই কাজের কিছুদিন যেতে না যেতেই গেটের বাঁধ পুনরায় ভেঙে পড়েছে, ফলে এলাকাবাসী আজ চরম ভোগান্তির শিকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভামিয়ার এই গেটটি ভাঙাচোরা অবস্থায় ছিল। এতে জোয়ারের পানিতে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চারপাশের গ্রামগুলোতে প্লাবনের শঙ্কা তৈরি হয়। সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে কাজ শুরু হলে স্থানীয়দের মনে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু কাজ শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই গেট ভেঙে পড়ায় এখন তারা আরও বেশি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ,
কাজটি ছিল নিম্নমানের এবং পরিকল্পনাহীন, প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হয়নি এবং এই প্রকল্পের অপেসাদার বাণিজ্যিক টিম এই অর্থ সঠিক ব্যবহার না করে তসরুপ করেছে বলে প্রতীয়মান হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মৎস্য চাষী ও কাঁকড়া ব্যবসায়ী সাহীন মোল্লা বলেন,
“আমরা বারবার বলেছিলাম গেটটা সরিয়ে বাঁধ মজবুত করা দরকার। এতে খুব বেশি খরচ হতো না। কিন্তু সরকার ১৬ লাখ টাকা খরচ করল, অথচ বাঁধ এখনো ভাঙনের মুখে। এতে শুধু টাকার অপচয় হয়নি, আমাদের জীবন-জীবিকাও ঝুঁকিতে পড়েছে।”
বর্তমানে ভাঙা স্লুইস গেটের কারণে ভামিয়াসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিনিয়ত ভাঙন বাড়ছে, আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে হাজারো মানুষ।স্থানীয়দের দাবি, এত বিপুল অর্থ ব্যয় করেও যদি সমস্যা সমাধান না হয় তবে এটি সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি বলে মনে করেন।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার কাজ আজ মাছিমারতে কামান সাজারমত অবস্থা,তিনি আরো বলেন ফরমায়েশী বানিজ্য ১৬ লক্ষ টাকার বাঁধ ভেস্তে গেছে,ইউনিয়নের কাঁকড়া ও চিংড়ি চাষী এখন চরম বিপাকে, তবে এই বাণিজ্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা জরুরি বলে ইউনিয়ন বাসী মনে করেন।এ বিষয়ে সাফঠিকাদার আইয়ুব আলী র কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন খালের ভেতর সাইডে বাঁধ দিয়ে পানি বেঁধে রাখার কারণে এবং সেই পানির চাপে টিউবের একপাশে দেবে যেয়ে পানি সরবরাহ করছে, তবে আগামীকাল ভেঙে যাওয়া জায়গা সংস্কার করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী ফরিদুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রবল নদীর স্রোতের কারণে বর্তমানে যে বাঁধটি জিও টিউব দিয়ে করা হয়েছিল সেটি এক সাইটে ভেঙে পড়ে যাওয়ায় সেই স্থানে যেয়ে দ্রুত মেরামত করার চেষ্টা চলছে।সরজমিনে মঙ্গলবার (০২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যেয়েদেখা যায় স্লুইচ গেটটির রিভার সাইডে ভেঙে যেয়ে পানি প্রবেশ করছেন। ইউনিয়নবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থায়ী সমাধান করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
Leave a Reply