সংবাদ শিরোনামঃ
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আটক যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলার প্রতিবাদে শ্যামনগরে মানববন্ধন, অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর হামলায় উপকূলীয় প্রেসক্লাবের নিন্দা  সুন্দরবনে জেলেদের অনুমতি পত্র বিতরণ শুরু, প্রথম দিনেই বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে ২০২টি পাস সংগ্রহ করেছে জেলেরা শ্যামনগর প্রেসক্লাব সভাপতিকে মারধরের ঘটনায় আহত মনিরকে দেখতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম সুন্দরবন দিবসে গাবুরায় প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে মানববন্ধন ও ভিডিও প্রদর্শনী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে জামায়াতের আমিরের গভীর শোক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা কোথায় ও কেমন হবে — বিস্তারিত খবর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত — ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা সাংবাদিক আবুল বাসার এর জন্মদিন
দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও ডাকাত দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কোস্ট গার্ড

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও ডাকাত দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কোস্ট গার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক।

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও ডাকাত দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কোস্ট গার্ড।

বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে সুন্দরবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও জলোচ্ছ্বাস এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে কয়েকটি ডাকাত দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছে। ডাকাত চক্র সমুহের কর্মকাণ্ডে পর্যটন শিল্প, বাস্তুসংস্থান এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কোস্ট গার্ড তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে সূচনালগ্ন থেকে ডাকাতের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করে আসছে।

গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ শুক্রবার সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোট যোগে ভ্রমণকালে ডাকাত মাসুম বাহিনী ২ জন পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবগত করলে কোস্ট গার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও ফিনান্সিয়াল ট্রেসিং ব্যবহার করে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযানের পর জিম্মিকৃত পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় ডাকাত চক্রের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মোঃ সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুন্ডু (৩০), মোঃ ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) এবং মোছা দৃধা (৫৫) কে সুন্দরবন, দাকোপ এবং খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বুধবার কোস্ট গার্ড খুলনার তেরোখাদা থানাধীন ধানখালী সংলগ্ন এলাকা হতে বাহিনীটির প্রধান মাসুম মৃধা (২৩) কে আটক করে। পরবর্তীতে ডাকাত মাসুম মৃধার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১ টি চাইনিজ কুড়াল, ২ টি দেশীয় কুড়াল, ১ টি দা, ১ টি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও জিম্মি পর্যটকদের ৫টি মোবাইল ফোন এবং ১ টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ডাকাত এবং জব্দকৃত আলামতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, কোস্ট গার্ড গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যু বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ এবং জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করে। এসব অভিযানে মোট ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী এবং রাঙ্গা বাহিনীকি সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ একাধিক ডাকাত সহযোগী আটক করায় ছোট সুমন বাহিনী, ছোটন বাহিনী এবং কাজল মুন্না বাহিনী ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে সক্রিয় করিম শরিফ বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী ও দয়াল বাহিনীকে দমনে কোস্ট গার্ড টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

*সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জনবল বৃদ্ধি, কৌশলগত অবস্থানে নতুন স্টেশন স্থাপন, দ্রুতগামী স্পিডবোট সংযোজন এবং আধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির বৃদ্ধি করা অতীব প্রয়োজন।*

পাশাপাশি বন বিভাগের সমন্বিত অংশগ্রহণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে মর্মে প্রতিয়মান। যা বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সার্বিক সুরক্ষা তথা জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরো ফলপ্রসূ হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, জেলে ও বনজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *