সুন্দরবনের বড়কেয়া খালী এলাকায় শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়া একটি হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ ও সিপিজি (কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপ) সদস্যরা। যৌথ অভিযানে হরিণটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার(৬ ডিসেম্বর) দূপুরে।
এ বিষয়ে রেঞ্জার ফজলুল হক এর কাছে জানতে চাইলে বলেন , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে সুন্দরবনের বড়কেয়া খালী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় গভীর বনের ভেতরে অবৈধভাবে পাতা ফাঁদে একটি হরিণ আটকে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সিপিজি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্কতার সঙ্গে ফাঁদ কেটে হরিণটিকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃত হরিণটির পায়ে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তা গুরুতর নয় বলে জানান বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে হরিণটিকে আবার সুন্দরবনের নিরাপদ এলাকায় অবমুক্ত করা হয়।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকারের উদ্দেশ্যে এক শ্রেণির অসাধু চক্র নিয়মিতভাবে ফাঁদ পেতে থাকে, যা বন্যপ্রাণীর জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব অবৈধ কার্যক্রম রোধে বন বিভাগ নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে সিপিজি সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তারা।
এ বিষয়ে সিপিজি সদস্যরা জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয়দের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বন্যপ্রাণী শিকারের কোনো তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগকে জানাতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান প্রাণী হলো হরিণ। অবৈধ শিকার ও ফাঁদের কারণে প্রতি বছর অসংখ্য হরিণ আহত ও নিহত হচ্ছে। বন বিভাগ ও সিপিজির যৌথ উদ্যোগে এমন উদ্ধার কার্যক্রম সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

Leave a Reply