সংবাদ শিরোনামঃ
দেবহাটায় খেজুরবাড়িয়াতে ক্লাব বাস্তবায়ন ও ক্লাবের জায়গা নির্ধারণ সম্পর্কে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনীতে নদীর চরে গাছ কেটে মাটিচাপা দেবহাটায় ইউপি জমি দখল: সচিবের দেওয়া অভিযোগপত্র ‘নিখোঁজ’, প্রাচীর নির্মাণেই দায় সারছে প্রশাসন সাতক্ষীরা সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকারির ফাঁদ উদ্ধার, বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত সুন্দরবনে টহল চলাকালে ডাকাত সন্দেহে গুলিবর্ষণ, অস্ত্র উদ্ধার ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ এবং পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ১৭ এর প্রেস রিলিজ সুন্দরবনে নৌকা ডুবি: ফিরে এলেন ৪ মৌয়াল, নিখোঁজ আরও ৪ জন, খোঁজ মিলেছে আরও একজনের  সুন্দরবনে ঝড়ে নৌকা ডুবি: ৪ মৌয়াল উদ্ধার, নিখোঁজ ৪ উদ্ধারে বনবিভাগ কালিগঞ্জে হাজী তফিলউদ্দীন মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা সুন্দরবনে মধু আহরণে গিয়ে মৌয়াল সাপের কামড়ে আহত, বন বিভাগের সহায়তায় উদ্ধার
দেবহাটায় ইউপি জমি দখল: সচিবের দেওয়া অভিযোগপত্র ‘নিখোঁজ’, প্রাচীর নির্মাণেই দায় সারছে প্রশাসন

দেবহাটায় ইউপি জমি দখল: সচিবের দেওয়া অভিযোগপত্র ‘নিখোঁজ’, প্রাচীর নির্মাণেই দায় সারছে প্রশাসন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ১ নম্বর কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি জমি দখল ও গাছ চুরির ঘটনায় এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক ‘লুকোচুরি’ শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন সচিব এবং গ্রাম পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে পুরো বিষয়টি এখন রহস্যের আবর্তে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের মতো ফৌজদারি অপরাধে যেখানে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা, সেখানে অভিযোগ পত্র নিয়ে লুকোচুরি ও ‘মীমাংসার’ গুঞ্জন স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর কুলিয়ার মৃত জিয়াদ আলীর ছেলে মাসুদ হোসেন, দক্ষিণ কুলিয়ার আব্দুর কাদিরের ছেলে কামরুল ইসলাম এবং একই এলাকার মৃত ইউনুস আলী সরদারের ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুল ইসলামের সম্পৃক্ততায় ইউনিয়ন পরিষদের জমি দখল করে সেখানে বহু বছর আগে রোপণ করা আম, নারকেল ও সুপারি গাছ কেটে ফেলা হয় এবং পরবর্তীতে দ্রুত সেখানে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রবাস চন্দ্র মণ্ডলকে ৫ লাখ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ ইব্রাহিম খলিলকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যার বিনিময়ে পরিষদের মূল ফটক ব্যবহার করে নির্মাণসামগ্রী প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয়।

এঘটনায় গত ৩ এপ্রিল বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার হয় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে একটি ‘প্রকৃত ঘটনার বিবরণ’ এবং জড়িতদের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী অভিযোগপত্রটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রবাস মন্ডলের নিকট জমা দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে সেটি আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

অভিযোগ উঠেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজের ও সংশ্লিষ্টদের নাম আড়াল করতে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সেই মূল অভিযোগপত্রটি সরিয়ে ফেলেছেন।

ঘটনার বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জমি দখল বা গাছ কাটার বিষয়ে তার দপ্তরে কোনো লিখিত অভিযোগ পৌঁছায়নি। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বরাতে তিনি জেনেছেন যে বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলের ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও, এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ওপরই অভিযোগ দেওয়ার ভার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বর্তমানে ভেঙে ফেলা সীমানা প্রাচীরটি পুনরায় নির্মাণের কাজ চলছে, তবে মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি

​অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই প্রক্রিয়ায় তথ্য গোপন ও নথিপত্র গায়েব করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গ্রাম পুলিশ ইব্রাহিম খলিল স্বীকার করেন যে, ঘটনার পর একটি লিখিত অভিযোগ তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি আর কোথাও জমা দেওয়া হয়নি। ইব্রাহিমের দাবি অনুযায়ী, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ‘মীমাংসা’ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পরিষদের কেটে ফেলা গাছগুলো পরবর্তীতে এই গ্রাম পুলিশের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়।

​অভিযোগপত্রের বিষয়ে ইউনিয়ন সচিব ফারুক হোসেন জানান, তিনি নিজ হাতে প্রকৃত ঘটনার বিবরণ ও দোষীদের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগপত্র তৈরি করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিকট জমা দিয়েছিলেন। সচিবের দাবি অনুযায়ী সেই নথির কপি ইউএনও দপ্তরে পৌঁছানো হয়েছে বলে তাকে অবগত করা হয়। অভিযোগ রযেছে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী যখন প্রকৃত ঘটনা সচিব অভিযোগ আকারে লেখেন তখন সেখানে প্রভাব বিস্তার করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রবাস চন্দ্র। একপর্যায়ে অভিযোগটি দুইবার রদবদল করে উপজেলা প্রশাসনের নিকট জমা দেওয়ার জন্য সেটি চেয়ারম্যান গ্রহণ করেন।

​এবিষয়ে কুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রবাস চন্দ্র মণ্ডল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি দুইমাস ছুটিতে ছিলাম। দুইমাস পর যখন পরিষদের দায়িত্ব নেই তারভিতরে জমি দখল, গাছ কাটাসহ প্রাচীর ভাঙা হয়। যেটা ঘটেছে আমার অনুপস্থিতিতে। তবে বেদখল হওয়া জমি বর্তমানে দখলো রয়েছে পরিষদের।

অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সচিব ফারুক হোসেন ভালো জানেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।

অথচ সচিব যেখানে চেয়ারম্যানের হাতে অভিযোগপত্র হস্তান্তরের দাবি করছেন, সেখানে চেয়ারম্যানের এই মন্তব্য রহস্যের জন্ম দিয়েছে। মূলত অভিযুক্তদের হাতেই অভিযোগের দায়ভার থাকায় পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার পথ সুগম হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক নেতা মাধব দত্ত বলেন, সরকারি সম্পত্তি দখল, গাছ কাটা এবং প্রশাসনিক নথি ঘিরে অনিশ্চয়তা যদি সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু স্থানীয় অনিয়ম নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার গুরুতর সংকট। নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য বের করা সম্ভব নয় এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *