ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (বয়স ৮৬) নিহত হওয়ার খবর ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রথম খবরটি সকালে প্রচার করে জানায় যে খামেনি “শাহাদাত বরণ করেছেন” এবং তার মৃত্যুর জন্য তারা ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে।
খবর অনুযায়ী তিনি জাতীয় কর্তব্য পালনকালে নিহত হয়েছেন, যদিও সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি বা বিবরণ এখনও সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিল ঘোষণা করেছে যে দেশব্যাপী সরকারি অনুষ্ঠান ও কাজে বিরতি থাকবে এবং পতাকার অর্ধনমিত্ত থাকবে।
খবরটি এমন সময় এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত চলছে। কিছু আন্তর্জাতিক সূত্র জানাচ্ছে যে খামেনির মৃত্যুর খবর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বা বোমাবর্ষণের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, যদিও বিভিন্ন পক্ষ থেকে তথ্যের মধ্যে মিল বা পার্থক্য রয়েছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং দেশটির সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ ছিলেন। তিনি গত প্রায় তিন দশক ধরে ইরানের রাজনীতি, সামরিক এবং ধর্মীয় নীতি পরিচালনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্ন উঠছে। সরকারি বার্তা অনুযায়ী, একটি অস্থায়ী কমিটি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে, যার সদস্যদের মধ্যে আছে ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং আইনি উপদেষ্টা।
Leave a Reply