সুন্দরবনে বনদস্যুদের নির্যাতন, জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং বনজীবীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোরায় এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বনদস্যুদের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন লিটন।
সভায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের জীবিকা, খাদ্য ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবলম্বন। এ বনের ওপর নির্ভর করে হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বনদস্যুদের ভয় ও নির্যাতনের কারণে অনেক বনজীবীকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে হয়। জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে প্রবেশ করলেও নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করে।
বক্তারা আরও বলেন, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে হলে শুধু প্রতিবাদ সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; প্রয়োজন সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ। বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বনদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
প্রধান অতিথি মো. সালাউদ্দিন লিটনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় সুন্দরবনের বনজীবীদের নিরাপত্তা ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বনদস্যুদের নির্যাতন বন্ধে বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা, বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উপকূলীয় মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply