সংবাদ শিরোনামঃ
পারুলিয়ায় শিশুশ্রম তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা সভা মিসেস নুরজাহান পারভীন ঝর্ণার পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা বাসী ও জাতীয়তাবাদী দলের জন্য শুভেচ্ছা বার্তা শ্যামনগরের ০৮ নং ইশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদে গণশুনানী অনুষ্ঠিত সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ৪১টি ফাঁদ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ শ্যামনগরে সুপেয় পানির সংকট তুলে ধরতে দৌড়ে অংশ নিল ২ শতাধিক মানুষ দেবহাটার পারুলিয়ায় অসহায় পরিবারকে জামায়াতে ইসলামীর ভ্যান উপহার দেবহাটায় নবাগত ওসির সাথে ছাত্রদলের শুভেচ্ছা বিনিময় তেলের জন্য লম্বা লাইনে শিক্ষক,ক্লাস বন্ধ চাপে শিক্ষা কার্যক্রম শ্যামনগরে চিংড়িতে পুশ করায় ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা : চিংড়ি আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট অপারেশন ম্যানগ্রোভ শীল্ড
সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ বন্ধের দেড় মাস পার, কষ্টে দিন কাটাচ্ছে উপকূলের জেলেরা

সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ বন্ধের দেড় মাস পার, কষ্টে দিন কাটাচ্ছে উপকূলের জেলেরা

এম এ হালিম শ্যামনগর থেকে।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এখনো চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন উপকূলের হাজারো জেলে পরিবার।
 জীবিকার প্রধান উৎস বন্ধ থাকায় অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।
বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে প্রাকৃতিকভাবে কাঁকড়ার উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বনজ সম্পদ সংরক্ষিত থাকে। তবে দীর্ঘ এই সময়টিতে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কয়রা ও আশাশুনি উপজেলার উপকূলবর্তী এলাকার জেলেরা।
স্থানীয় জেলে জামাল মোল্লা, আনিসুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, হাসন সরদার জানান, বছরের বেশিরভাগ সময় তারা সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী ও খালে নামতে না পেরে সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই ধারদেনা করে বাজার করছেন, কেউ কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকার একাধিক জেলেরা আরো বলেন, “দেড় মাস পার হয়ে গেছে, হাতে কোনো কাজ নেই। সরকারি সহায়তার আশ্বাস পেলেও এখনো অনেকের হাতে পৌঁছেনি।” তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় অন্তত চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হলে কিছুটা স্বস্তি মিলত।
এদিকে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া ধরা বন্ধ রাখা হলে ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবেন। তবে উপকূলবাসীর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সহায়তাও জরুরি।
সচেতন মহল মনে করছেন, সুন্দরবন রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয় হলেও জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, ভিজিএফ বা বিশেষ প্রণোদনা কার্যক্রম চালু না করলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার বাকি সময়টুকু কিভাবে পার করবেন—এ চিন্তায় দিন গুনছেন উপকূলের হাজারো জেলে পরিবার। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও টেকসই সমাধান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *