এম এ হালিমঃ
সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণার দুই মাসের মধ্যে আজ ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত বন-নির্ভর কাঁকড়া আহরণকারী জেলেদের হাতে পৌঁছেনি কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি আর্থিক সহায়তা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপকূলীয় এলাকার হাজারো জেলে পরিবার।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকে। এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করা ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও বিকল্প আয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন সুন্দরবন-নির্ভর জেলেরা।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালী, মুন্সীগঞ্জসহ উপকূলবর্তী ইউনিয়নের কাঁকড়া আহরণকারী জেলেরা জানান, বছরের এই দুই মাস তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। কাঁকড়া আহরণ বন্ধ থাকায় আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী এলাকার আব্দুর রহিম জানান, “নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার আজ ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কেউ কোনো খবর নেয়নি। ধারদেনা করে কোনো রকমে দিন পার করছি।”
স্থানীয়র জেলেরা আরো অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত জেলেরা বাদ পড়ে যায় এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা সুবিধা পেয়ে থাকেন। ফলে প্রকৃত বনজীবীরা আরও বঞ্চিত হন।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বন বিভাগের টহল জোরদার থাকায় কোনোভাবেই সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারছেন না জেলেরা। এতে বিকল্প কোনো পথও খোলা নেই। অনেক পরিবার অনাহারের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা দ্রুত জেলেদের তালিকা করে সরকারি সহায়তা পৌছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জেলেদের দাবি, সুন্দরবন রক্ষায় তারা সবসময় সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলে আসছেন।তাই এই নিষেধাজ্ঞার সময়টুকুতে তাদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
দ্রুত সমায়ের মধে সহায়তা না এলে সুন্দরবন উপকূলের কাঁকড়া আহরণকারী হাজারো পরিবার আরও ভয়াবহ সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
Leave a Reply