রাত পোহালেই বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে মৌয়াল (মধু সংগ্রাহক) দল। নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মৌয়ালরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পহেলা এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে মধু আহরণ কার্যক্রম। এ উপলক্ষে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্টেশন ও চেকপোস্টে মৌয়ালদের নিবন্ধন, পাশ (পারমিট) প্রদান এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া শেষ হয়েছে।
মৌয়ালরা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই তারা নৌকা ও সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রস্তুত করেছেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে মধু আহরণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ বা অনিয়ম রোধে টহল কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও সুন্দরবনের মধু আহরণ মৌসুম স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। মৌয়ালদের পাশাপাশি এই মৌসুমকে ঘিরে বনসংলগ্ন এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
তবে ঝুঁকিও কম নয়। বন্যপ্রাণীর আক্রমণ, নদী পথে দুর্ঘটনা, বনদস্যু এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা মাথায় নিয়েই জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনের গভীরে পাড়ি জমাতে হচ্ছে মৌয়ালদের।
সব মিলিয়ে, সব প্রস্তুতি শেষে এখন শুধু অপেক্ষা ভোরের—রাত পোহালেই শুরু হবে সুন্দরবনের আরেকটি ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ মধু সংগ্রহ। ৩১ মার্চ বিকাল পর্যন্ত বনবিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে বৈধ পারমিটের জন্য বেশ কিছু বিএলসি জমা পড়েছে বলে জানান স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক।
Leave a Reply