সংবাদ শিরোনামঃ
দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দুই দফায় গণপিটুনি, যুবকের মৃ+ত্যু; ‘মানসিক ভারসাম্যহী ছিলেন, বলছে পরিবার সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা ফের সক্রিয় হয়ে জিম্মি করা শুরু করেছে জেলেদের  দেবহাটায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত দেবহাটায় নজরুল বর্ষের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ দেবহাটায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই আসামি গ্রেপ্তার দেবহাটার বিভিন্ন দূর্গাপূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম শ্যামনগরে দৈনিক রানার এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন দেবহাটায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স মঙ্গলবার*স্মার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যে সকল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ রোগী দেখবেন— শ্যামনগরে ফুলগাছে ভাইরাস কাটতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু
দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দুই দফায় গণপিটুনি, যুবকের মৃ+ত্যু; ‘মানসিক ভারসাম্যহী ছিলেন, বলছে পরিবার

দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দুই দফায় গণপিটুনি, যুবকের মৃ+ত্যু; ‘মানসিক ভারসাম্যহী ছিলেন, বলছে পরিবার

দেবহাটা প্রতিনিধিঃ
দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, শামীম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় প্রথম দফায় গণপিটুনির শিকার হন শামীম। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে রাত ৯টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাকে আবারও মারধর করে। মধ্যরাতে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে।স্থানীয়দের ভাষ্য, শামীমের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করেন ফজলুল হক আমিনী নামে এক ব্যক্তি। এ সময় তিনি জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। পরে কুলিয়া এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারের সামনে বিক্ষুব্ধ লোকজন জড়ো হন। সেখানে চিকিৎসাধীন শামীমকে বের করে প্রথম দফায় মারধর করা হয়।
ফজলুল হক আমিনী বলেন, ‘শামীম গত ছয় মাস ধরে আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। প্রতিবেশী বা অন্য কেউ তার সঙ্গে কথা বললে তিনি ইসলামবিদ্বেষী কথাবার্তা বলতেন। আজ তৌহিদী জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।’
শামীমের ছোট ভাই সাগর হোসেন বলেন, তারা পাঁচ ভাই। শামীম ছিলেন চতুর্থ। তিনি মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে।
সাগর বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যার কারণে ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কখনো স্বাভাবিক আচরণ করতেন, আবার কখনো অস্বাভাবিক কথাবার্তা বলতেন। তার চিকিৎসা চলছিল। তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার হতে পারত। এভাবে পিটিয়ে তাকে মেরে ফেলা হলো কেন? আমরা কিছুই করতে পারিনি। সামনে এগোলে আমাদেরও মারধর করা হতো।’
তিনি আরও বলেন, দুই দিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের ঝগড়া হয়। ওই সময় তাদের কথাবার্তা আশপাশের কেউ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেন বলে তাদের ধারণা। এতে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঝগড়ার পর শামীম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে কুলিয়ার গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই তাকে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে আবারও মারধর করে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে সন্ধ্যার আগে শামীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি মিছিল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাকে আবারও মারধর করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান। পরে শামীমকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও বলেন, শত শত মানুষ জড়ো হয়ে মব তৈরি করেছিল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগের কথা বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের বলতে শুনেছেন তিনি। তবে ঠিক কী মন্তব্যের কারণে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *