বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিপদসংকুল সময় বা “ডেঞ্জার পিরিয়ড” ১৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। প্রাক-বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় এলাকার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। প্রতি বছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বিভিন্ন কারণে উপকূলজুড়ে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময় বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন লঘুচাপ, নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা থাকে। এর ফলে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝড়ো হাওয়া, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি ও নদী ভাঙনের মতো দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, কক্সবাজারসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে এই সময়টাতে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়।
বিশেষ করে সাতক্ষীরা উপকূলে, নাজুক বেড়িবাঁধ প্রতি বছর ভেঙে যেয়ে ব্যপক ক্ষতির মূখে পড়তে হয় উপকূলের সাধারণ মানুষের।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বজ্রঝড় ও কালবৈশাখী এবং বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধি উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে অনেক সময় বাঁধ ভেঙে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী জেলে, বনজীবী ও কৃষকদের জন্য এই সময়টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে প্রায়ই প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝড়ের মুখে পড়েন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য উপকূলবাসীকে পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তাই উপকূলের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় আগাম প্রস্তুতি এবং সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
Leave a Reply