সংবাদ শিরোনামঃ
কয়রায় সৌদি সরকারের পাঠানো খেজুর মাদরাসা ও এতিমখানায় সুষ্ঠুভাবে বিতরণ শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল পশ্চিম সুন্দরবন এলাকায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বনদস্যুরা, আতঙ্কে জেলেরা কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর কবির বাংলাদেশের উপকূলে বিপদসংকুল সময় শুরু নলতায় এমজেএফ বিশেষ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ পেট্রোল পাম্পে প্রশাসনের হঠাৎ অভিযান, তদারকিতে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন কালিগঞ্জে তেল মজুদের দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও তেল জব্দ কালিগঞ্জে সাংবাদিক সমিতি আয়োজনে ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে গাবুরায় সুন্দরবন নারী দল সুপেয় পানি প্লান্টের শুভ উদ্বোধন
পশ্চিম সুন্দরবন এলাকায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বনদস্যুরা, আতঙ্কে জেলেরা

পশ্চিম সুন্দরবন এলাকায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বনদস্যুরা, আতঙ্কে জেলেরা

 শ্যামনগর(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা উপকূল সংলগ্ন পশ্চিম সুন্দরবন এলাকায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য। দস্যুদের ভয় ও চাঁদাবাজির কারণে সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া সংগ্রহে যেতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় জেলে ও বনজীবীরা। ফলে জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন উপকূলের হাজারো পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীপথে সক্রিয় কয়েকটি দস্যু চক্র। জেলেরা নৌকা নিয়ে বনে প্রবেশ করলেই তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে মারধর, এমনকি অপহরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা, মুন্সিগঞ্জ ও কৈখালী এলাকার অনেক জেলে জানান, আগে বন বিভাগ থেকে অনুমতি (পাস) নিয়ে তারা সুন্দরবনে মাছ ধরতে যেতেন। কিন্তু বর্তমানে দস্যুদের ভয়ে অনেকেই বনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দস্যুদের টাকা দিয়ে বনে প্রবেশ করছেন।
একজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। বনেই আমাদের রুটি-রুজি। কিন্তু এখন বনে গেলেই দস্যুরা ঘিরে ধরে টাকা দাবি করে। একেকটা নৌকা থেকে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টাকা না দিলে মারধর করে, জাল কেটে দেয়।”
আরেক বনজীবী জানান, “দস্যুদের কারণে সুন্দরবনে এখন নিরাপত্তা নেই। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে যাই। অনেক সময় পরিবারের লোকজনও যেতে বাধা দেয়।
তার পরে ও যেতে হয়, তাছাড়া বনে না গেলে খাবো কি। বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের গৃহীনি মর্জিনা খাতুন বলেন বনে ডাকাত বেড়ে যাওয়ার কারণে আমার স্বামী বনে কাঁকড়া ধরতে যেতে পারছেনা, সামনে ঈদ এখনো পর্যন্ত আমার বাচ্চাদের ঈদের নতুন পোশাক কিনে দিতে পারিনাই, এভাবে যদি ডাকাত বেড়ে যায় তাহলে বাপ দাদার এলাকা ছেড়ে অন্য কোনোযায়গায় চলে যেতে হবে আমাদের।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, কয়েক বছর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে অনেক দস্যু আত্মসমর্পণ করেছিল। এতে সুন্দরবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবারও নতুন করে দস্যু চক্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠছে।
বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তারা ফজলুল হক জানান, সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারে বনরক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। দস্যুদের বিরুদ্ধে তথ্য পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে দস্যু আতঙ্কে বনজীবীদের সুন্দরবনে যাওয়া কমে যাওয়ায় স্থানীয় মাছ ও কাঁকড়ার বাজারেও প্রভাব পড়েছে। অনেক জেলে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
উপকূলের বনজীবীরা দ্রুত সুন্দরবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে সুন্দরবন নির্ভর হাজারো পরিবার চরম বিপদের মুখে পড়বে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *