এম এ হালিমঃ
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মাছের প্রজনন মৌসুমকে নিরাপদ রাখতে পহেলা জুন থেকে আগামী তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে সুন্দরবন নির্ভর উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটবে তাদের।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা, কৈখালী, মুন্সিগঞ্জসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ মানুষ সুন্দরবনের মৎস্য আহরণ, কাঁকড়া সংগ্রহ, মধু আহরণ ও বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছরের মতো এবারও বন বিভাগ তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করায় তাদের আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় জেলে জামাল মোল্লা বলেন, “সারা বছর আমরা সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরে সংসার চালাই। তিন মাস বন বন্ধ থাকায় আমাদের কোনো আয় নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হবে। সরকার যদি কোনো সহায়তা দিত তাহলে কিছুটা উপকার হতো।”
জেলে সাত্তার গাজী বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। সুন্দরবন বন্ধ থাকলে ঘরে বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”
আরেক জেলে আব্দুল হাকিম বলেন, “বনের ওপর নির্ভর করেই আমাদের জীবন-জীবিকা। নিষেধাজ্ঞা মেনে আমরা বনে যাব না, তবে এই সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার নিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, বন সংরক্ষণের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন হলেও এ সময়ে জেলে ও বনজীবীদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা, ভিজিএফ কর্মসূচি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আর বৃদ্ধি করা জরুরি।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মাছ, কাঁকড়া ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিন মাসের জন্য বন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় কোনো ব্যক্তি বা নৌযান সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপকূলবাসীর প্রত্যাশা, সুন্দরবন রক্ষার পাশাপাশি বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
সম্পাদকঃ এম এ হালিম, মোবাইল: ০১৯১১-৪৫১৬৯৭,০১৭৮১১৫৮৯২৯ , Email- halim.nildumur@gmail.com.