জামাল হোসেন উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি:
সুন্দরবনে তিন মাসের জন্য মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ সম্পদ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলেও সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার এক জেলে গত ২৫ জুলাই (শনিবার) রাতে সুন্দরবন থেকে বিষ দিয়ে আহরণ করা প্রায় ২৯০ কেজি চিংড়ি মাছ কলবাড়ী মাছ আড়তে বিক্রি করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবনে বর্তমানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ অবস্থায় এত বিপুল পরিমাণ চিংড়ি মাছ কীভাবে সুন্দরবন থেকে আহরণ করা হলো এবং তা কীভাবে লোকালয়ে এনে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হলো—এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর নজরদারির ঘাটতির কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, বিষ দিয়ে মাছ শিকার শুধু আইনবিরোধী নয়, এটি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। বিষের কারণে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ির রেণুসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
এ বিষয়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, সুন্দরবন থেকে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বা ২৯০ কেজি চিংড়ি মাছ আহরণের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ নেই। কেউ লিখিত বা নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। পাশাপাশি সুন্দরবনে চলমান নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং বিষ দিয়ে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্পাদকঃ এম এ হালিম, মোবাইল: ০১৯১১-৪৫১৬৯৭,০১৭৮১১৫৮৯২৯ , Email- halim.nildumur@gmail.com.