এম এ হালিম শ্যামনগর থেকে।
সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের খোলপাটুয়া ও কপোতাক্ষ নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিন-রাত সমানতালে একাধিক বাল্কহেড ও নৌকায় করে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর নাব্যতা, তীরবর্তী এলাকা ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে বালু উত্তোলনের কাজ চলে। বালুভর্তি বাল্কহেড ও নৌযান বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "প্রতিদিনই নদী থেকে প্রকাশ্যে বালু তোলা হচ্ছে। রাতের বেলাতেও একইভাবে বাল্কহেড চলাচল করে। আমরা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে পাইনি।"
আরেকজন স্থানীয় বলেন, "এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদীর তীর ভাঙন বাড়বে, কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা প্রয়োজন।"
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, অনুমতি ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী নৌ থানার অফিসার ইনর্চাজ ওহিদুজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নৌ পুলিশ প্রতিনিয়ত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে রাতের আধারে, আমাদের অজানতে হয়তো অবৈধ ভাবে বালু উঠছে কি না নৌ পুলিশের জানার বাহিরে। তিনি আরো বলেন, বুড়িগোয়ালিনী নৌ পুলিশের অভিযানে মাঝে মধ্যে বালুর নৌকা জব্দ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে, ভ্রাম্যমাণ আদালত করে জেল জরিমানা করা হয়ে থাকে। তবে নৌ পুলিশ কে সঠিক তথ্য দিলে সাথে সাথে অভিযান করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
গাবুরা ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যে দেখা যায়, নীলডুমুর বিজিবির অভিযানে বালু উত্তোলন করা বাল্কহেডসহ বালু খাদকদের আটক করা হয়।
তবে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদকঃ এম এ হালিম, মোবাইল: ০১৯১১-৪৫১৬৯৭,০১৭৮১১৫৮৯২৯ , Email- halim.nildumur@gmail.com.