সোহারাফ হোসেন সৌরভ, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কাটিয়া এলাকায় এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। নিহত রিমি আক্তার রিচি (১৯)-এর বাবা মো. কামরুল মোড়ল বাদী হয়ে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শেখ বিল্লাল হোসেন রাজ প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রিমিকে বিয়ের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা শহরের একটি নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর রিমিকে শ্বশুরবাড়িতে না তুলে যৌতুক হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা রিমির ওপর ধারাবাহিকভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। পাশাপাশি তাকে তালাকের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে অপমান করা হতো বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, গত ২৬ জুন ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেখ বিল্লাল হোসেন রাজ মোবাইল ফোনে রিমিকে গালিগালাজ ও অপমান করেন এবং আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে রিমি ভাড়া বাসার একটি কক্ষে ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন।
পরে সকাল প্রায় ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি জানিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কামরুল মোড়ল স্বামীসহ পাঁচজনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন এবং মানসিক নিপীড়নের অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাসুদুর রহমান বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদকঃ এম এ হালিম, মোবাইল: ০১৯১১-৪৫১৬৯৭,০১৭৮১১৫৮৯২৯ , Email- halim.nildumur@gmail.com.