শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে ফুসলিয়ে ঘেরের বাসায় ডেকে নিয়ে জোর করে ভয় সহ হুমকি দিয়ে প্রতিবন্ধী মেয়েকে বাধ্য করে তার নিজ পিতার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের কথা বলতে আর সেই কথা রেকর্ডিং করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে সম্মানহানি সহ মুয়াজ্জিনকে মসজিদের চাকরি থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সারমিন আক্তার ইরানী(২৩) হলেন শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের খাগড়াঘাট গ্রামের আবু ইছা মোল্যার কন্যা, তিনি খাগড়াঘাট বাইতুল আমান পাঞ্জেগানা মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং শারমিন আক্তার ইরানি সমাজসেবা অধিদফতর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।
স্থানীয় ভাবে জানাযায় যে মোঃ আবু ইছা মোল্যার সাথে একই এলাকার শওকত সরদারের পুত্র মোঃ নুরুজ্জামান (৪০) এর পারিবারিক বিরোধ জনিত কারণে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ইরানীকে ঘেরের বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে কৌশলে তার কাছে থেকে নিজ পিতার সাথে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে একটি কল রেকডিং করে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। নুরুজ্জামান নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয় এলাকায় কারো সাথে কিছু হলেই তাকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দেয় এজন্য তাকে কেউ কিছু বলতে পারে না।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ইরানী প্রতিবেদককে জানান, নুরুজ্জামানের বউ আমাকে ঘেরের বাসায় ডেকে নিয়ে গেলো। নুরুজ্জামান আমাকে ভয় দেখিয়ে আমার আব্বা আমার সাথে খারাপ কাজ করে এসব বলতে বললে আমি বলি আমার আব্বা ভালো মানুষ সে খারাপ না। তখন আমাকে ভয় দেখায় মারতে আসে দা দেখিয়ে জবাই করবে বলে। তখন যা বলে আমি তাই বলি এরপর বলে লিখতে বলে।
স্থানীয় মোঃ ফিরোজ আহমেদ বলেন, ইছা হুজুর আমাদের মসজিদের দীর্ঘ ১০/১৫ বছর যাবত দ্বায়িত্ব পালন করে আসতেছে, উনি খুব ভালো মানুষ। উনার সম্মানহানী করার জন্য একাজ করেছে। মেয়েটা প্রতিবন্ধী সে সুযোগ নিয়েছে।
মুয়াজ্জিন আবু ইছা মোল্যা বলেন আমি দীর্ঘদিন যাবত খাগড়াঘাট বাইতুল আমান পাঞ্জেগানা মসজিদে আজান দেই আমি কেমন মানুষ এ এলাকার মানুষ জানে। নুরুজ্জামানের বড়ো ভাই আমার ভায়ের জামাই তাদের দু ভাইয়ের ভিতরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। কয়েকদিন আগে নুরুজ্জামান তার ভাইকে মারতে আসলে আমি সেখানে উপস্থিত থাকায় ঠেকিয়ে দেই। সে কারণে নুরুজ্জামান আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে আমার সম্মানহানি সহ মসজিদের আজানের দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আমার নামে এ ধরনের ঘৃণ অপবাদ দিচ্চে। সে কাউকে মানে না কিছু বলতে গেলে বিপদ আরো বাড়বে এজন্য আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি আশা করি প্রশাসন তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নুরুজ্জামানের কাছে মোবাইল ফোনে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবু ইছা মোল্যা খারাপ প্রকৃতির মানুষ তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
এবিষয়ে শ্যামনগর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুজ্জামান বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদকঃ এম এ হালিম, মোবাইল: ০১৯১১-৪৫১৬৯৭,০১৭৮১১৫৮৯২৯ , Email- halim.nildumur@gmail.com.