শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নুরনগরে পাইলসের অপারেশন করাতে গিয়ে আলমগীর হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃ*ত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার ব্যক্তিগত ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়; ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
নিহত আলমগীর হোসেন নুরনগর এলাকার মৃত মোবারক আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার(৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে আলমগীর হোসেন পাইলসের অপারেশন করানোর জন্য নুরনগরে গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার ব্যক্তিগত ক্লিনিকে যান। সেখানে তার পাইলসের অপারেশন শুরু করার পর কোনো এক পর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে স্বজনরা জানান।
নিহতের চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার ভুল চিকিৎসার কারণেই আলমগীরের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। অপারেশনের পর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফারজানা জানান, আলমগীর হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আনার সময় তিনি জীবিত ছিলেন না বলে জানান এই চিকিৎসক।
রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মৃত ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন সংগ্রহের কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
আলমগীরের স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুললেও এখন পর্যন্ত ময়নাতদন্ত বা তদন্ত প্রতিবেদনে ভুল চিকিৎসাকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাইলসের অপারেশনের সময় কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, কোনো ধরনের অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, অপারেশনের সময় রোগীর কোনো জটিলতা হয়েছিল কি না এবং ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা,
এছাড়া গোলাম মোস্তফার ব্যক্তিগত ক্লিনিকে এ ধরনের অস্ত্রোপচার করার অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অবকাঠামো রয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের যাচাই করা উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের দাবি, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
আলমগীর হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
তদন্তে যদি চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
সম্পাদকঃ এম এ হালিম, মোবাইল: ০১৯১১-৪৫১৬৯৭,০১৭৮১১৫৮৯২৯ , Email- halim.nildumur@gmail.com.