প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১:৫৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
উপকূলের মায়েদের জীবন চলে নোনা জলে: মাতৃত্বের আলোয় দুশ্চিন্তার ছায়া
গর্ভবতী মুন্ডার চোখে এখন একসঙ্গে দুই রকমের স্বপ্ন—একদিকে মাতৃত্বের অপার আনন্দ, অন্যদিকে অনিশ্চয়তার গভীর ছায়া। চিকিৎসকের ভাষ্যমতে, আর মাত্র এক মাস পনেরো দিনের মধ্যেই তার কোলজুড়ে আসবে নতুন অতিথি। কিন্তু এই আনন্দঘন মুহূর্তেই সামনে এসে দাঁড়িয়েছে বড় এক সংকট—তার শরীরে মারাত্মক রক্তস্বল্পতা। সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দিতে প্রয়োজন তিন ব্যাগ রক্তের, যার মধ্যে এক ব্যাগ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। বাকি দুই ব্যাগের খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি।
তবুও জীবন থেমে নেই। গর্ভে সন্তান নিয়ে, শারীরিক দুর্বলতা আর অজানা শঙ্কাকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন নেমে পড়েন নদীতে। কাদামাখা তীর, স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে হাতে জাল নিয়ে তিনি ধরেন বাগদার পোনা। প্রতিটি পোনা যেন তার সন্তানের বেঁচে থাকার একেকটি আশার আলো।
স্বামী মুন্ডা একজন সাধারণ জেলে। ভোরের আলো ফোটার আগেই তিনি নদীতে পাড়ি জমান। দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পর যে অল্প আয় হয়, তা দিয়ে কোনো মতে সংসার চলে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানোই যেখানে কষ্টকর, সেখানে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় যেন আরও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও তারা হার মানতে নারাজ।
অভাব-অনটনের মাঝেও তাদের চোখে আছে স্বপ্ন—তাদের সন্তানরা একদিন এই দারিদ্র্যের চক্র ভেঙে নতুন ভবিষ্যৎ গড়বে। সেই আশাতেই প্রতিদিন নতুন করে সংগ্রাম শুরু করেন তারা।
এই গল্প শুধু এক মায়ের নয়, এটি উপকূলীয় জনপদের হাজারো পরিবারের প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রতিটি ঢেউয়ের সঙ্গে লড়ে গিয়ে মানুষ বাঁচতে শেখে, স্বপ্ন দেখতে শেখে। মানবিক সহায়তা পেলে হয়তো মুন্ডা পরিবারের এই সংগ্রাম কিছুটা হলেও সহজ হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদকঃ এম এ হালিম, মোবাইল: ০১৯১১-৪৫১৬৯৭,০১৭৮১১৫৮৯২৯ , Email- halim.nildumur@gmail.com.
হেড অফিসঃ আলাউদ্দিন মার্কেট, নীলডুমুর, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা- ৯৪৫৫