সাতক্ষীরা উপকূল অঞ্চলে সফ্টসেল কাঁকড়া উৎপাদন ও প্যাকেজিং প্রকল্প চালু হওয়ায় স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁকড়া, লালন-পালন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের মাধ্যমে এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।
ছোট বড় শতাধীক প্রজেক্ট গড়ে উঠেছে এ এলাকায় এবং বেকারত্ব দূর হয়েছে হাজারো মানুষের। তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, যেমন সীতাকুন্ড, নোয়াখালী, চিটাগাংসহ
এসব স্থান থেকে কাঁকড়া প্রজেক্ট মালিক গণ কাঁকড়া সংগ্রহ করে থাকেন। এবিষয়ে নীলডুমুরে গড়ে উঠা ছোট, বড় কাঁকড়া সফ্টসেল ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাইলে ওই মালিক গণ বলেন আমরা দেশের বিভিন্ন স্থান হতে কাঁকড়া সংগ্রহ করে প্রজেক্ট গুলো চলে, এসব স্থান থেকে কাঁকড়া না আসলে আমাদের এ প্রজেক্ট চালানো সম্ভব হতো না।
স্থানীয় যুবক আনারুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের অভাব থাকলেও সফ্টসেল কাঁকড়া প্রজেক্ট চালু হওয়ায়পর থেকে এলাকার বহু যুবক এখন নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন। কাঁকড়া খামার, হ্যাচারি, প্যাকেটজাতকরণ ও পরিবহনের মতো বিভিন্ন ধাপে প্রতিদিনই নিয়োজিত হচ্ছেন অসংখ্য শ্রমিক।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সফ্টসেল কাঁকড়ার বৈদেশিক চাহিদা বেশি হওয়ায় এ খাতে সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। উপকূলীয় অঞ্চলের পানি, আবহাওয়া ও পরিবেশ কাঁকড়া উৎপাদনের জন্য অনুকূল হওয়ায় এখানে টেকসইভাবে এ শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব।
স্থানীয় এক নারী বিউটি খাতুন বলেন, আগে এলাকায় তেমন কাজ ছিল না। এখন এই কাঁকড়া প্রজেক্টে কাজ করে পরিবারের খরচ চালাতে পারছি। নীলডুমুর উত্তর পাড়ার মনিরুল, ইয়াসিনসহ অসংখ্য যুবক বলেন সফ্টসেল কাঁকড়া প্রকল্প আসার পরে আমাদের জীবন পাটলে গিয়েছে আমরা চাই জীবনের যতদিন বেঁচে থাকবো এভাবেই যেন এই প্রজেক্টে কাজ করে জীবন চালাতে পারি।
উপকূলীয় অর্থনীতিবিদদের মতে সফ্টসেল কাঁকড়া শিল্প উপকূল অঞ্চলের বেকারত্ব কমিয়ে আঞ্চলিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।
কাঁকড়া আহরণ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন এর স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে বলেন সরকারি বিধি মোতাবেক ২শ গ্রাম মেইল কাঁকড়া এবং ১৩০ফিমেল কাঁকড়া আহরণ করতে পারবে জেলেরা, স্টেশন কর্মকর্তা আরো বলেন, বনবিভাগের টহল চলাকালীন সময় কাঁকড়া আহরণ জেলেদের নৌকায় অভিযান করে ছোট কাঁকড়া পেলে সুন্দরবন বর্তী নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
সরজমিনে রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে প্রজেক্টগুলো ঘুরে দেখা যায়,
নীলডুমুর অবস্থিত জাপান ফাস্ট লিমিটেড প্রজেক্টে কাজ করেন ৩৭০ জন নারী পুরুষ,জান্নাত মদিনা, সিলেট প্রজেক্টে কাজ করেন ১৩০ নারী পুরুষ, ইমপেক্স ভিশন লিমিটেড এ কাজ করেন ১৩৫নারী পুরুষ,
এভাবেই হাজার ও নারী, পুরুষ কাজের সন্ধান পেয়ে তাদের জীবন জীবিকার খোঁজ পেয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় অব্যাহত থাকলে সাতক্ষীরা অঞ্চল সফ্টসেল কাঁকড়া রপ্তানির হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।